জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে কড়াকড়ি, নতুন আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বে কড়াকড়ি, নতুন আদেশে ট্রাম্পের স্বাক্ষর
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) পাওয়ার সুযোগ সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।
বর্তমানে মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড, জলসীমা কিংবা আকাশসীমায় জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করে। ১৮৬৮ সালে গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে দাসপ্রথা বিলোপের পর মুক্ত দাসদের সন্তানদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে এই সাংবিধানিক সংশোধনী কার্যকর করা হয়।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু বিদেশি দম্পতি শুধুমাত্র সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। প্রশাসনের ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় “Birth Tourism”।
হোয়াইট হাউসের দাবি, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে মূলত এই ধরনের অপব্যবহার রোধ করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বরাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, নতুন নীতির ফলে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং শুধুমাত্র নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে আসা ব্যক্তিরাই বেশি প্রভাবিত হবেন।
নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “তারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের ব্যবস্থাকে পুরোপুরি প্রহসনে পরিণত করেছে। দশকের পর দশক ধরে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার চলছে, আর এটি বন্ধ করা আমাদের দায়িত্ব।”
বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিকদের সন্তান এবং শত্রু রাষ্ট্রের কিছু নাগরিক এই সুবিধার বাইরে থাকলেও নতুন আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি আরও সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস, আদালত এবং নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।