ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং শিগগিরই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হতে পারে। এ খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে, আর ওয়াল স্ট্রিট নতুন রেকর্ড গড়েছে। যদিও তেহরান এখনো বলছে, ওমানের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি অব্যাহত থাকলে চুক্তি বিলম্বিত হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ইরানের সঙ্গে সারাদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বুধবার এশিয়ার লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আরও কমে যায় এবং ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার নতুন সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এক অবগত সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যতদিন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি অব্যাহত রাখবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হবে না।

বর্তমানে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বজায় রেখেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে সংকট দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে কাতারও জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন। মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে ফোনালাপে চলমান সংকট এবং স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করেছিলেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতা সীমিত করা এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি সেসব লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর