অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, বিদেশিদের ফেরত পাঠাতে জনচাপ বাড়ছে
অবৈধ অভিবাসনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে তীব্র জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। একই সঙ্গে বহু অবৈধ অভিবাসী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, বিদেশিদের ফেরত পাঠাতে জনচাপ বাড়ছে
অবৈধ অভিবাসনকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বলতা, অপরাধ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানে প্রতিযোগিতা এবং সরকারি সেবার ওপর চাপ বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসী দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে রয়টার্স জানায়, দেশব্যাপী একদিনের অভিযানে ও বিক্ষোভ চলাকালে প্রায় ৯০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বেশিরভাগ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হলেও কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং জোহানেসবার্গ এলাকায় একজন নিহত হন।
দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক সংগঠন March and March Movement-এর দাবি, দেশে ১ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসী থাকতে পারে। তবে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা Statistics South Africa-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যার মধ্যে বৈধ অভিবাসীরাও অন্তর্ভুক্ত।
সংগঠনটির নেতা জাসিন্তা এনগোবেসে-জুমা অভিযোগ করেন, অবৈধ অভিবাসনের কারণে অপরাধ বেড়েছে, স্থানীয়দের কর্মসংস্থান কমেছে এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা স্বীকার করেছেন, কিছু নিয়োগকর্তা কম মজুরিতে কাজ করানোর জন্য কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের নিয়োগ দেন। তিনি অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৪৪৯ জন বিদেশিকে বহিষ্কার বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আনা হয়েছে। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, এই পদক্ষেপ সংকট মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে অভিবাসন ইস্যু দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং শ্রমবাজার, এই তিনটি বিষয় এখন দেশটির নীতিনির্ধারণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।