কাতারে পৌঁছেছেন মার্কিন দূতরা, ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক

ইরানের যুদ্ধ অবসানে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে আজ কাতারে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশেষ দূত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার-এর এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে

PostImage

কাতারে পৌঁছেছেন মার্কিন দূতরা, ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক


ইরানের যুদ্ধ অবসানে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে আজ কাতারে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই বিশেষ দূত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার-এর এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন গত সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দোহায় অবস্থানকালে মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি কূটনীতিকদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসবেন না। বরং কাতারসহ মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের ভূমিকা পালন করবে। এসব বৈঠকে কোনো উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা অংশ নেবেন না।

এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এ ধরনের পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী দুই দফা আলোচনা ভেস্তে যায়—প্রথমে ২০২৫ সালে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং পরে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে।

আল-আনসারি বলেন,

"এই মুহূর্তে আমরা কোনো উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তার উপস্থিতি প্রত্যাশা করছি না। তবে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক চলমান রয়েছে এবং তা বন্ধ হয়নি।"

অন্যদিকে, ইরানও এ সপ্তাহে কাতারে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মঙ্গলবার বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পর্যায়েই বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।

তিনি জানান,

"আগামীকাল দোহায় কাতারের সঙ্গে যে আলোচনা হবে, সেখানে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন দিক—বিশেষ করে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।"

তবে তিনি এটিও অস্বীকার করেননি যে কাতারের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হতে পারে।

অন্তর্বর্তী চুক্তির মূল বিষয়

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি অন্তর্বর্তী চুক্তিতে সম্মত হয়। এতে বলা হয়েছে—

ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত তেল-সংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে।

হরমুজ প্রণালিতে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

৬০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি বিস্তৃত চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু ইরানের হামলা ও হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী জাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমার মধ্যে অবস্থান করলেও হরমুজ প্রণালিকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত সপ্তাহে ওমানের জলসীমা দিয়ে প্রণালিতে উভয়মুখী জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়, যা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে চলমান আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে।

ইরান দুই দফায় প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালায়, যার মধ্যে কাতারের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি ট্যাংকারও ছিল। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়। একই সঙ্গে রোববার ইরান বাহরাইন ও কুয়েত লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই কাতারে পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হচ্ছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনা প্রশমিত করে একটি স্থায়ী সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর