প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা লেবাননের যুদ্ধবিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া Israel ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-এর মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
প্রাণঘাতী ইসরায়েলি হামলায় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা লেবাননের যুদ্ধবিরতি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া Israel ও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-এর মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শনিবার দক্ষিণ উপকূলীয় শহর Saksakiyeh-এ ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তল্লাশি চালান উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং ওই ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর কিছুক্ষণ পরেই রাজধানী Beirut-এর দক্ষিণে লেবাননের প্রধান উপকূলীয় মহাসড়কে দুটি গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। এতে স্পষ্ট হয় যে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমান্ত ছাড়িয়ে দেশের ভেতরের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর অস্ত্রগুদাম ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাল্টা ড্রোন ও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এসব হামলায় তিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই পক্ষই প্রতিদিন একে অপরকে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধবিরতিটি বাস্তবে কতটা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষ করে সম্প্রতি Beirut-এর ঘনবসতিপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ যুদ্ধবিরতির পর এ ধরনের হামলা এটিই প্রথম। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। আগামী সপ্তাহে Lebanon ও Israel-এর প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় Washington-এ নতুন দফা বৈঠকে বসবেন। উদ্দেশ্য হচ্ছে সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তিতে রূপ দেওয়া। তবে লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহর ওপর সীমিত নিয়ন্ত্রণ আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত হয় মার্চ মাসে, যখন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করে। এর কয়েকদিন আগেই Iran-কে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্র হয়েছিল। জবাবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান শুরু করে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর হামলায় তাদের ১৮ সেনা ও দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত নতুন ধরনের ফাইবার-অপটিক ড্রোনও এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রথমে Ukraine যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘর্ষেও ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এসব ড্রোন সহজে জ্যাম করা যায় না এবং সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন সেনাদের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এখন আশঙ্কা তৈরি করেছে যে, লেবাননের এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে।