ইরানের শুধু ইউরেনিয়াম নয়, প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধকরন নিয়েও তৈরি হতে পারে ঝুঁকি

ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো পারমাণবিক চুক্তি হলে সেখানে শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নয়, প্লুটোনিয়ামভিত্তিক বোমা তৈরির পথও পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে—এমন দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ

PostImage

ইরানের শুধু ইউরেনিয়াম নয়, প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধকরন নিয়েও তৈরি হতে পারে ঝুঁকি


ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো পারমাণবিক চুক্তি হলে সেখানে শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নয়, প্লুটোনিয়ামভিত্তিক বোমা তৈরির পথও পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে—এমন দাবি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতদিন আন্তর্জাতিক আলোচনা মূলত ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচিকে ঘিরে আবর্তিত হলেও, তেহরান গোপনে প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এ কারণেই নতুন চুক্তিতে কঠোর নজরদারি ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জরুরি হয়ে উঠেছে।

Jason Brodsky বলেন, ইসরায়েল গত এক বছরে দু’বার আরাকের হেভি ওয়াটার রিয়্যাক্টরে হামলা চালালেও ইরান সেটি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তাই ভবিষ্যৎ যেকোনো চুক্তিতে “প্লুটোনিয়াম পথ” অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা Henry Sokolski সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবহৃত জ্বালানি থেকে প্লুটোনিয়াম সংগ্রহ করা সম্ভব। তার দাবি, সেখানে এত পরিমাণ প্লুটোনিয়াম রয়েছে যা দিয়ে ২০০টির বেশি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা International Atomic Energy Agency–এর পরিদর্শন পর্যাপ্ত নয়। শেষবার পরিদর্শকরা ২০২৫ সালের আগস্টে বুশেহর কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তার মতে, ৯০ দিন অন্তর পরিদর্শনের ফাঁকে ইরান চাইলে গোপনে জ্বালানি সরিয়ে ফেলতে পারে।

তবে সবাই এ আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন। David Albright বলেছেন, বুশেহরের প্লুটোনিয়াম দিয়ে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, সেখানে মূলত “রিয়্যাক্টর-গ্রেড” প্লুটোনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য আদর্শ নয়। এছাড়া রাশিয়া সহজেই এ ধরনের পদক্ষেপ শনাক্ত করতে পারবে।

অন্যদিকে Foundation for Defense of Democracies–এর বিশেষজ্ঞ Andrea Stricker বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইরানের ওপর স্থায়ী ও যাচাইযোগ্য প্লুটোনিয়াম পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। একই সঙ্গে বুশেহর কেন্দ্রে আরও ঘন ঘন আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের ব্যবস্থাও জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সমঝোতার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, কেবল ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করলেই যথেষ্ট হবে না; প্লুটোনিয়ামভিত্তিক সম্ভাব্য কর্মসূচিও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ কমেনি। বরং এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে “দ্বিতীয় পথ” হিসেবে পরিচিত প্লুটোনিয়াম কর্মসূচি।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর