ইরান এখনো “বড় যুদ্ধের সীমা” অতিক্রম করেনি - দাবী ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এখনো শুরু হয়নি। একই সময়ে ইউরোপ, চীন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে, আর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা।

PostImage

ইরান এখনো “বড় যুদ্ধের সীমা” অতিক্রম করেনি - দাবী ট্রাম্প প্রশাসনের


২০২৬ সালের ৫ মে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে ইরানের সঙ্গে হওয়া নাজুক যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং জয়েন্ট চিফস চেয়ারম্যান Dan Caine বলেছেন, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এখনো “বৃহৎ সামরিক অভিযান” হিসেবে গণ্য হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেনি।

পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ড্যান কেইন জানান, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইরান ৯ বার বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে, দুটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছে এবং ১০ বারের বেশি মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা করেছে। তবে ওয়াশিংটনের মতে, এসব হামলা পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেনি।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। United Arab Emirates-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তারা ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি “এনহ্যান্সড সিকিউরিটি এরিয়া” গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, এই উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও অস্থিতিশীল করছে এবং প্রয়োজনে তেহরান জবাব দেবে।

কূটনৈতিক পর্যায়েও তৎপরতা চলছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio এই সপ্তাহে ItalyVatican City সফরে যাচ্ছেন। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং Pope Leo XIV-এর মধ্যে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমানো।

অন্যদিকে China প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, চীন এখনো তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেনি, যদিও বেইজিং বারবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। চীনের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর বৈঠকে এই বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হবে।

এদিকে Pakistan যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকেই সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। ফিল্ড মার্শাল Asim Munir-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সামরিক বৈঠকে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তির জন্য দায়িত্বশীল আচরণ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান অত্যন্ত জরুরি। পাকিস্তান বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে।

ইউরোপেও উত্তেজনা বাড়ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron ট্রাম্পের ইউরোপীয় গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের সময় মিত্রদের মধ্যে এ ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয়।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance আইওয়া সফর করেছেন, যা ২০২৮ সালের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি Vivek Ramaswamy-কে গভর্নর পদে সমর্থন দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এবং শুল্ক নীতির কারণে তার রাজনৈতিক পথ কঠিন হতে পারে।

বিশেষ করে আইওয়ার কৃষকরা এখনও ট্রাম্পকে সমর্থন করলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বাণিজ্য যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর