মার্কিন যুদ্ধজাহাজে টানা হামলা, বড় সংঘাতের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা, সরাসরি পাল্টা হুমকি এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজে টানা হামলা, বড় সংঘাতের আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ Strait of Hormuz ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি এখন ভেঙে পড়ার মুখে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি এসকর্ট বা “গাইড” মিশন পরিচালনা করবে। এই ঘোষণার পরপরই ইরানের সামরিক বাহিনী কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে যে, প্রণালীতে প্রবেশ করা যেকোনো মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
সোমবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিক্রম করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ডেস্ট্রয়ার—USS Truxtun এবং USS Mason—ইরানি বাহিনীর সমন্বিত হামলার মুখে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোট নৌযান, ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়, যা মার্কিন কর্মকর্তারা “দীর্ঘস্থায়ী বা sustained barrage” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে মার্কিন বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, সব ধরনের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এ সময় জাহাজগুলোকে সহায়তা দিতে আকাশে যুদ্ধবিমান এবং AH-64 Apache হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়।
এর আগে ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য সংস্থা জানায়, ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ১১ মাইল দূরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক ছোট নৌযান থেকে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় অঞ্চলের বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর তার নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইতোমধ্যে অন্তত ৪৯টি জাহাজকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতি সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সিনিয়র কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার দিকে এগোচ্ছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, এবং ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তবে তিনি একইসঙ্গে দাবি করেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট, যেখানে দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।