ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েনকে ঘিরে। একদিকে ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

PostImage

ইরানের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প


হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের প্রস্তাবিত ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা। তবে এ প্রস্তাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। একই সময়ে পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে রোববার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের উপকূল থেকে মাত্র ১১ মাইল দূরে একটি বড় বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক ছোট নৌযান থেকে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে UK Maritime Trade Operations। যদিও হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। অতীতেও ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুতগামী নৌকা ব্যবহার করে বিভিন্ন জাহাজে হয়রানি ও জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইরান

ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার Ali Nikzad বলেছেন,

“হরমুজ প্রণালি থেকে আমরা পিছু হটবো না এবং এটি আর যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।”

তার এ বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কৌশলগত এ জলপথে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে চায় তেহরান।

কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে জার্মানি

এদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী Johann Wadephul জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi–এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন,

“যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে আমাদের লক্ষ্য এক—ইরানকে অবশ্যই যাচাইযোগ্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে এবং অবিলম্বে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে।”

জার্মান চ্যান্সেলর Friedrich Merzও ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ইরানের তেল খাত নিয়ে সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি Scott Bessent বলেছেন, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক অবরোধের কারণে ইরানের তেল খাত চাপে পড়েছে।

ফক্স নিউজের উপস্থাপক Maria Bartiromo–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উপসাগরে শত শত তেলবাহী জাহাজ আটকে আছে এবং ইরানের তেল সংরক্ষণাগার দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন,

“দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের তেল অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাচ্ছে যে আগামী সপ্তাহেই তাদের কিছু তেলের কূপ বন্ধ করতে হতে পারে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর