জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার—ওয়াশিংটন-বার্লিন উত্তেজনা তুঙ্গে
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানি থেকে প্রায় ১২,০০০ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় বিরোধিতার মুখে তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং Joe Biden ক্ষমতায় আসার পর পরিকল্পনাটি বাতিল হয়ে যায়।
জার্মানি থেকে ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার—ওয়াশিংটন-বার্লিন উত্তেজনা তুঙ্গে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিতে এটি একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ওয়াশিংটন ও বার্লিনের মধ্যে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে।
পেন্টাগনের মুখপাত্র Sean Parnell জানান, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“জার্মানি থেকে প্রায় ৫,০০০ সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে,” তিনি বলেন।
“বর্তমান পরিস্থিতি ও অপারেশনাল প্রয়োজন বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে।”
জার্মানির কৌশলগত গুরুত্ব
বর্তমানে জার্মানিতে প্রায় ৩৮,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। Ramstein Air Base সহ বিভিন্ন ঘাঁটি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় কমান্ড (EUCOM)-এর সদর দপ্তরও জার্মানিতে অবস্থিত।
উত্তেজনার মূল কারণ
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং জার্মান চ্যান্সেলর Friedrich Merz এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্ব।
ইরান ইস্যু, ন্যাটো ব্যয়, বাণিজ্যনীতি এবং সামরিক দায়বদ্ধতা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ দীর্ঘদিনের।
সম্প্রতি মার্সবার্গে দেওয়া বক্তব্যে মার্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে “অপমানিত” হচ্ছে এবং তিনি দ্রুত সংঘাতের অবসান আশা করেন।
এর জবাবে ট্রাম্প তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্জের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।
“তিনি জানেন না তিনি কী বলছেন,”—ট্রাম্প মন্তব্য করেন।
অতীত প্রেক্ষাপট
২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন জার্মানি থেকে প্রায় ১২,০০০ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে কংগ্রেসে দ্বিদলীয় বিরোধিতার মুখে তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং Joe Biden ক্ষমতায় আসার পর পরিকল্পনাটি বাতিল হয়ে যায়।
পেন্টাগন জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ন্যাটো জোটে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।