হরমুজে ‘তেহরান টোলবুথ’ পরিকল্পনা: তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের যে পরিকল্পনা করছে—তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে
হরমুজে ‘তেহরান টোলবুথ’ পরিকল্পনা: তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের যে পরিকল্পনা করছে—তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ Strait of Hormuz দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে যেকোনো নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি ব্যারেল তেলে অতিরিক্ত ১ ডলার খরচ যোগ হলে বছরে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার বাড়তি ব্যয় হতে পারে। যদিও এই পরিমাণ বৈশ্বিক তেলবাজারের তুলনায় ছোট, বাস্তবে পরিবহন ঝুঁকি, বীমা খরচ এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে মোট ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জাহাজ চলাচল করায় নাবিকদের বাড়তি ভাতা এবং বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
এদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে Brent Crude-এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১০০ ডলারের আশেপাশে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
আইনি দিক থেকেও পরিস্থিতি জটিল। অধিকাংশ দেশ UNCLOS অনুসরণ করলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এতে অংশ নেয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিরোধ তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করাও কঠিন হয়ে পড়বে।
অর্থনৈতিকভাবে এই উদ্যোগ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে এর প্রভাব সীমিত থাকতে পারে বলে মনে করছে Bruegel, যদিও দীর্ঘমেয়াদে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
এ পরিস্থিতিকে ইতোমধ্যেই “অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব” বলে আখ্যা দিয়েছেন International Energy Agency প্রধান Fatih Birol। অন্যদিকে International Monetary Fund সতর্ক করেছে, সংঘাত আরও বাড়লে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, “তেহরান টোলবুথ” পরিকল্পনা সরাসরি খরচের চেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করছে এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রভাব নিয়ে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।