যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
“মধ্যপ্রাচ্যে কি শুরু হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় যুদ্ধ? ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের মাঝে মার্কিন মেরিন মোতায়েন—তেলের দাম বাড়ছে, বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক!”
যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে, তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ তীব্রতর, মার্কিন মেরিন মোতায়েন; তেলের দামে বড় উল্লম্ফন
ওয়াশিংটন/দুবাই, ২০ মার্চ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা এবং একটি অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট জাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপকে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে ইসরায়েল ও ইরান এর মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে এবং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরান এবং ইরানের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দুটি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এর জবাবে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেল আবিব ও জেরুজালেমের দিকে। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও একটি ক্ষেপণাস্ত্রের অংশ জেরুজালেমের ওল্ড সিটির বাইরে পড়েছে বলে জানা গেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সংঘাতের বিস্তার ঘটিয়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলেও হামলা জোরদার করেছে। কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলায় আগুন লেগেছে। একই সঙ্গে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ২,৫০০ মেরিন সেনার পাশাপাশি USS Boxer এবং অন্যান্য যুদ্ধজাহাজ দ্রুতই অঞ্চলে মোতায়েন করা হবে। তবে ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালানো হবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা এবং তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানো। তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে সহযোগিতা না করায় ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করেছেন।
এদিকে একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের স্থল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ এই ধরনের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, যা জনমতের মধ্যে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মুসলিম বিশ্বে ঈদুল ফিতর উদযাপন চলছে এবং ইরানে পালিত হচ্ছে নওরোজ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় বলেছেন, ইরান ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে এটি একটি বৃহৎ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পুরো বিশ্ব অর্থনীতির ওপর।