তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানিশূন্যতা ও দূষণ—গ্রীষ্মকালে শিশুদের জন্য বাড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি; বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মানলেই মিলতে পারে সুরক্ষা
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। তীব্র গরম, আর্দ্রতা ও পরিবেশ দূষণের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকে শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে শিশুদের রোগপ্রবণতা বেড়ে যায়—ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ত্বকের সমস্যা ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানিশূন্যতা ও দূষণ—গ্রীষ্মকালে শিশুদের জন্য বাড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি; বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মানলেই মিলতে পারে সুরক্ষা
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে গ্রীষ্ম মৌসুমে তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। তীব্র গরম, আর্দ্রতা ও পরিবেশ দূষণের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকে শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরমে শিশুদের রোগপ্রবণতা বেড়ে যায়—ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, ত্বকের সমস্যা ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসক, পুষ্টিবিদ ও পরিবেশবিদরা।
গরমে শিশুদের সাধারণ স্বাস্থ্যঝুঁকি
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কম। ফলে অতিরিক্ত গরমে তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়।
Bangladesh Paediatric Association–এর সঙ্গে যুক্ত শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন,
“গরমে শিশুদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, হিট র্যাশ এবং জ্বর। অনেক সময় শিশুরা খেলাধুলা করতে গিয়ে অতিরিক্ত ঘাম ঝরায়, কিন্তু পর্যাপ্ত পানি পান করে না—এটাই বড় ঝুঁকি তৈরি করে।”
তিনি বলেন, শিশুকে ঘন ঘন পানি পান করানো, হালকা কাপড় পরানো এবং দুপুরের প্রচণ্ড রোদে বাইরে না নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুষ্টিকর খাদ্যই বড় সুরক্ষা
পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের সময় শিশুদের খাদ্যতালিকায় পানি ও খনিজসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো দরকার।
পুষ্টিবিদ ডা. নাজমা শারমিন বলেন,
“গরমে শিশুদের শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। তাই ডাবের পানি, লেবুর শরবত, তাজা ফল, তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, দই—এসব খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা দরকার।”
তিনি আরও বলেন, রাস্তার খোলা খাবার বা বাসি খাবার থেকে শিশুদের দূরে রাখা জরুরি, কারণ এসব খাবার থেকে খাদ্যজনিত সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়।
পরিবেশ দূষণ ও তাপদাহের প্রভাব
পরিবেশবিদরা বলছেন, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপদাহের মাত্রা বাড়ছে, যা শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
Bangladesh Poribesh Andolon–এর পরিবেশ গবেষক ড. আবু নাসের খান বলেন,
“শহরে গাছপালা কমে যাওয়ায় তাপমাত্রা আরও বেশি অনুভূত হয়। তাপদাহ ও বায়ুদূষণ শিশুদের শ্বাসযন্ত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।”
তিনি বলেন, স্কুল ও বাসাবাড়ির আশপাশে গাছ লাগানো, খোলা জায়গা সংরক্ষণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
শিশুদের সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা গরমে শিশুদের সুরক্ষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—
পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার পান করানো
দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রোদে বাইরে না নেওয়া
হালকা ও ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরানো
প্রতিদিন গোসল করানো ও পরিষ্কার রাখা
বাসি ও খোলা খাবার এড়িয়ে চলা
জ্বর, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তাদের মতে, সঠিক যত্ন ও সচেতনতা থাকলে তীব্র গরমেও শিশুদের সুস্থ রাখা সম্ভব।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপমাত্রা শিশুদের জন্য বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করলেও, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চললে অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব। সচেতন পরিবারই পারে শিশুর সুস্থ শৈশব নিশ্চিত করতে।