মিসাইল হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং পাল্টা হুমকিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মিসাইল, উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা আর সীমান্ত শহরে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ—মাত্র কয়েক ঘণ্টায় একের পর এক ঘটনা। ঠিক কী ঘটছে এই অঞ্চলে?

PostImage

মিসাইল হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং পাল্টা হুমকিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। United States, Israel এবং Iranকে ঘিরে শুরু হওয়া সংঘাত এখন দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, এবং এখনো থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে “খুব কঠোর হামলা” চালানো হতে পারে। এর আগে তিনি তেহরানের কাছে “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করেছিলেন।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি জানান, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা করবে না—যদি না সেসব দেশ থেকে ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু হয়।

এদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সব সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে

আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি

সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

Lebanon-এর পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকার Nabi Chit শহরে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছে।

এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের শহর Kiryat Shmona-র বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে দক্ষিণে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়ছে।

Saudi Arabia’s Ministry of Defense জানিয়েছে, সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Prince Sultan Air Base লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এছাড়া Shaybah oilfield লক্ষ্য করে আসা ড্রোনও প্রতিহত করা হয়েছে।

অন্যদিকে United Arab Emirates জানিয়েছে, তাদের ওপর ১৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর পরিসংখ্যান

যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত—

  • ২২১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়েছে

    • ২০৫টি ভূপাতিত

    • ১৪টি সাগরে পড়েছে

    • ২টি ইউএই ভূখণ্ডে পড়েছে

  • ১,৩০৫টি ড্রোন শনাক্ত হয়েছে

    • ১,২২৯টি ধ্বংস করা হয়েছে

    • ৭৬টি ইউএই ভূখণ্ডে পড়েছে

  • ৮টি ক্রুজ মিসাইলও ধ্বংস করা হয়েছে

হতাহত

এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে Pakistan, Nepal এবং Bangladesh-এর নাগরিক রয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন দেশের কমপক্ষে ১১২ জন আহত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা বিশ্বের তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।