ট্রাম্প বললেন, ইরানের নেতৃত্ব ‘নিষ্ক্রিয়’ — গণতন্ত্র না হলেও আপত্তি নেই
হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে নতুন ঝড় তুলেছে ইরান। পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক ‘শ্যাডো ফ্লিট’ তেলবাহী জাহাজ জব্দ করছে—যার প্রভাব পড়তে পারে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতি ও চীনের জ্বালানি সরবরাহে।
ট্রাম্প বললেন, ইরানের নেতৃত্ব ‘নিষ্ক্রিয়’ — গণতন্ত্র না হলেও আপত্তি নেই
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ইরান গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে কি না তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন—যদি নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখে।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে Iran-এর নেতৃত্ব এখন কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন,
“এক সপ্তাহ আগে ইরান ছিল শক্তিশালী, কিন্তু এখন তাদের নেতৃত্ব কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।”
ট্রাম্প আরও জানান, ইরানে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে সেটি ধর্মীয় নেতৃত্ব হলেও তার আপত্তি নেই, যতক্ষণ সেই নেতৃত্ব ন্যায্যভাবে দেশ পরিচালনা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করে।
ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টানলেন ট্রাম্প
ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতিকে Venezuela-এর সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro গ্রেপ্তার হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন,
“ভেনেজুয়েলায় যেমন হয়েছে, ইরানেও তেমনই সহজে পরিবর্তন ঘটবে।”
এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট Delcy Rodríguez-এর প্রশংসাও করেন।
ইরানের নৌবাহিনীর ওপর আঘাত
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তার দাবি,
“ইরানের প্রায় ২৫টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেকটাই কমে যাবে।
কিউবা নিয়েও মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, Cuba খুব শিগগিরই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুখে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা করতে আগ্রহী এবং পরিস্থিতি পরিপক্ব হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio এ বিষয়ে কাজ করতে পারেন।
ভোটার আইডি আইনকে অগ্রাধিকার
বিদেশনীতি ছাড়াও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভোটার পরিচয়পত্র আইনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত SAVE America Act আইনে ভোট দেওয়ার জন্য নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থন নির্ভর করতে পারে প্রার্থীরা এই আইনের পক্ষে অবস্থান নেন কি না—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি। ওই দৌড়ে রয়েছেন সিনেটর John Cornyn এবং টেক্সাসের অ্যাটর্নি জেনারেল Ken Paxton।