ভিডিওতে ধ্বংস হওয়া বিমানঘাঁটি—বাস্তব নাকি কৌশলগত ফাঁদ?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বাহিনীর নির্ভুল বিমান হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে United States Central Command। তবে ইরান দাবি করেছে, ভিডিওতে যে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হতে দেখা গেছে তার অনেকগুলোই আসলে ছিল ডিকয় বা ভুয়া লক্ষ্যবস্তু—যা শত্রুপক্ষকে বিভ্রান্ত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

PostImage

ভিডিওতে ধ্বংস হওয়া বিমানঘাঁটি—বাস্তব নাকি কৌশলগত ফাঁদ?


সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্য কমান্ড United States Central Command (সেন্টকম) তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, নির্ভুল বিমান হামলার মাধ্যমে বিভিন্ন এয়ারবেস ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানা হচ্ছে।


ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই দাবি করতে শুরু করেন যে, এতটা নিখুঁত হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে বড় সাফল্য পাচ্ছে।


তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, হামলায় ধ্বংস হওয়া অনেক লক্ষ্যবস্তুই আসল যুদ্ধবিমান বা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম ছিল না। বরং সেগুলো ছিল ডিকয়—অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা ভুয়া লক্ষ্যবস্তু।


বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক কৌশলে ডিকয় ব্যবহার নতুন কিছু নয়। অনেক সময় বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমানের আকারে কাঠামো তৈরি করা হয় বা মাটিতে বিশেষভাবে চিহ্ন আঁকা হয়, যাতে দূর থেকে সেগুলো আসল বিমান মনে হয়। এতে শত্রুপক্ষের আক্রমণ ভুল লক্ষ্যবস্তুতে পড়ে।


ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন এয়ারবেসে এমন শত শত ডিকয় স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রকৃত যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জামগুলো রাখা হয় ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক যুদ্ধে আকাশ হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ রক্ষা করতে অনেক দেশই ভূগর্ভস্থ হ্যাঙ্গার ও টানেল ব্যবহার করে। ইরানের ক্ষেত্রেও একই কৌশল দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।


ফলে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা ধ্বংসযজ্ঞ বাস্তবে কতটা কৌশলগত ক্ষতি করেছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।