অপারেশন এপিক ফিউরির চতুর্থ দিনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলছে। “অপারেশন এপিক ফিউরি”র চতুর্থ দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইসরায়েল নতুন হামলার মুখে জাতীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
অপারেশন এপিক ফিউরির চতুর্থ দিনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত
অপারেশন এপিক ফিউরির চতুর্থ দিনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত “অপারেশন এপিক ফিউরি”র চতুর্থ দিনে ইরান একটানা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইরান থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে দেশজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
আইডিএফ জানায়, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজানো হয় এবং বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোবাইল ফোনে সরাসরি সতর্কবার্তা পাঠায়, যেখানে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
“স্পষ্ট নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থান ত্যাগ করা যাবে না,” আইডিএফ জানায়।
সংঘাতের বিস্তার
এর আগে ৩ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তেহরানসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায়। এসব হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald J. Trump বলেছেন, এই অভিযান “কঠোর ও দৃঢ় সংকল্পের” সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হবে এবং এখন আর আলোচনার সুযোগ নেই।
প্রতিশোধ হিসেবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা ও মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সময়ে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান জোরদার করেছে এবং তেহরান-সমর্থিত সংগঠন Hezbollah-এর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে।
মার্কিন নাগরিকদের সতর্কতা
পরিস্থিতি অবনতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিবন্ধন ও সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর মজুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।