যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলা: খামেনিকে হত্যার দাবি, ইরানের অস্বীকার; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যখন একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলায় সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিস্ফোরণের শব্দ, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ, জরুরি সেবা কর্মীদের ছুটে চলা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করছেন উদ্ধারকর্মীরা, আর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথ হামলা: খামেনিকে হত্যার দাবি, ইরানের অস্বীকার; মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। United States ও Israel যৌথভাবে Iran-এর বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। হামলার পর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হয়েছেন। তবে ইরান সরকার এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
খামেনিকে হত্যার দাবি ও অস্বীকার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “মেজর কমব্যাট অপারেশন” শুরু করেছে এবং হামলায় গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরায়েলি সূত্র দাবি করে, তেহরানে খামেনির কমপ্লেক্স লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানায়, খামেনি “অটল আছেন এবং মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।” তারা হত্যার দাবি ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ
ইরানের রাজধানী Tehran-এ একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি দেশটির আরও কয়েকটি প্রদেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ২৪টি প্রদেশে অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলা
হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান, সৌদি আরব ও ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে United Nations। বিভিন্ন দেশ দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা, খামেনিকে হত্যার দাবি এবং ইরানের অস্বীকার—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, এই সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয় কি না।