সৌদি আরব কি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে?
যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে কঠোর নিরাপত্তা শর্ত শিথিল করতে যাচ্ছে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
সৌদি আরব কি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে?
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি বেসামরিক (শান্তিপূর্ণ) পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরব তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করতে চায়।
বর্তমান র্প্রেসিডেন্ট Donald Trump কংগ্রেসকে জানিয়েছেন যে তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি (যাকে “123 Agreement” বলা হয়) এগিয়ে নিচ্ছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই চুক্তিতে আগে যেসব কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (guardrails) রাখার কথা বলা হতো, সেগুলো এখন শিথিল করা হয়েছে।
Guardrails” বা নিরাপত্তা শর্ত কী?
আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো চাইত—
-
সৌদি আরব যেন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ (enrichment) না করতে পারে।
-
ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (reprocessing) না করে।
-
জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা International Atomic Energy Agency-এর অতিরিক্ত তদারকি (Additional Protocol) মেনে চলে।
এই শর্তগুলো রাখা হতো যাতে সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
নতুন উদ্বেগ কী?
প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, নতুন খসড়া চুক্তিতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালুর সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে চাইলে তারা অস্ত্র তৈরির মতো প্রযুক্তির দিকে এগোতে পারে—এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো বলছে, এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট
সৌদি যুবরাজ Mohammed bin Salman আগেই বলেছেন—যদি ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও তা করবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে শেষ কৌশলগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। চীনও তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার বাড়াচ্ছে। ফলে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা বাড়ছে।
কংগ্রেসের ভূমিকা
এই “123 Agreement” কার্যকর হতে হলে মার্কিন কংগ্রেসের সামনে তা পেশ করা হবে।
৯০ দিনের মধ্যে যদি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ যৌথভাবে এর বিরোধিতা না করে, তাহলে চুক্তি কার্যকর হয়ে যাবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংগঠন Arms Control Association বলেছে, কংগ্রেসের উচিত বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা।