‘ক্ষমতা নয়, স্থিতিশীলতাই গুরুত্বপূর্ণ’—জয়

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, নির্বাচন ‘ভুয়া’ হলেও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত আওয়ামী লীগ।

PostImage

‘ক্ষমতা নয়, স্থিতিশীলতাই গুরুত্বপূর্ণ’—জয়


সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে তার কোনো আপত্তি নেই। তবে তিনি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নির্বাচন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ITV-কে ভিডিও কনফারেন্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি নেন সাংবাদিক মাহাথির পাশা।

জয় বলেন, “আমি সবসময়ই আলোচনায় বিশ্বাস করি—তা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। যদি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন, আমরা অবশ্যই তার সঙ্গে কথা বলব এবং কাজ করব।”

নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘অবাধ ও সুষ্ঠু’ বলা হলেও জয় তা প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল এবং প্রগতিশীল শক্তিকে বাইরে রেখে যে নির্বাচন হয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরিবেশ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে তাদের জনসমর্থনের তুলনায় বেশি প্রভাব পায়।

জয়ের ভাষ্য, “যুক্তরাষ্ট্রে যদি ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকানদের একটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে কি সেটিকে অবাধ নির্বাচন বলা যাবে?”

আগের নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ঘিরে কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, আগের তিন নির্বাচনের মধ্যে দুটি বিরোধী দলের বর্জনের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে আওয়ামী লীগের বড় জয় আসবে বলে পূর্বাভাস ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে প্রশাসনের কিছু ব্যক্তির ‘স্বেচ্ছাচারী অনিয়ম’ হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেন, সেগুলোর তদন্ত হওয়া উচিত ছিল।

আন্দোলন, সহিংসতা ও দায়বদ্ধতা

জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে জয় স্বীকার করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যথাসময়ে সংলাপে বসতে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে সহিংসতা শুরু করেছিল ‘জামায়াত ও সশস্ত্র গোষ্ঠী’—এমন দাবি করেন তিনি।

জাতিসংঘের হিসাবে ১৫ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ জন নিহতের তথ্য প্রসঙ্গে জয় বলেন, নিহতদের একটি বড় অংশ পুলিশ সদস্য ও সরকার-সমর্থক কর্মী ছিলেন। সব মৃত্যুর দায় সরকারকে দেওয়া যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রসঙ্গে জয় বলেন, তার মা একদিন দেশে ফিরবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশে ফেরা নিরাপদ নয়। তার মতে, ভারতই এখন শেখ হাসিনার জন্য ‘সবচেয়ে নিরাপদ স্থান’।

রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জয় বলেন, তার কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। “আমি কখনো প্রধানমন্ত্রী হতে চাইনি। সবাই ক্ষমতা বা অর্থকে জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য মনে করে না,” বলেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক দল এবং সময়ের সঙ্গে সংস্কার হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন বলেও দাবি করেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর