“সব বাধা পেরিয়ে এ বছরই দেশে ফিরব”— ঘোষণা শেখ হাসিনার

অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশে ফিরবেন এবং রাজনৈতিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন।

PostImage

“সব বাধা পেরিয়ে এ বছরই দেশে ফিরব”— ঘোষণা শেখ হাসিনার



  • চলতি বছরেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, মৃত্যুদণ্ডের রায়কে বললেন ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’

    ঢাকা: ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina ঘোষণা দিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি “অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেছেন।

    ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার পথে যত বাধা-বিপত্তি বা ষড়যন্ত্রই থাকুক না কেন, তিনি তা অতিক্রম করে বাংলাদেশে ফিরবেন।

    তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা এবং সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেন।

    শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত চলে যান। এরপর গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের সহিংসতার সময় হত্যাকাণ্ডে উসকানি, হত্যার নির্দেশ এবং নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।

    এই রায় প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা দাবি করেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, এই বিচারিক প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হলো তার দল Bangladesh Awami League-এর নেতৃত্বকে রাজনীতি থেকে নির্মূল করা।

    তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। অতীতেও আমার দলকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কেউ সফল হয়নি। এবারও সফল হবে না।”

    দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যক্তিগত ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয় বলেও দাবি করেন শেখ হাসিনা। তার মতে, বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান।

    আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলটি কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; বরং বাংলার মাটি, মানুষের ইতিহাস এবং বাঙালি জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।

    তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

    অন্যদিকে, বর্তমান সরকার এসব আইনি প্রক্রিয়াকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকারের দাবি, শেখ হাসিনার প্রশাসনের শেষ সময়ে সংঘটিত বলে অভিযোগ থাকা অপরাধগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দেশে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর