প্রকৃতি ও মানুষের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানই দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন: পরিবেশ উপদেষ্টা
সরকার একা সমাজের সব প্রান্তে পৌঁছাতে পারে না—এই বাস্তবতা তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রকৃতি ও মানুষের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোই রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোগী। চ্যানেল আই চত্বরে আয়োজিত ‘প্রকৃতি ও জীবন–চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ২০২৫’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রকৃতি ও মানুষের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানই দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন: পরিবেশ উপদেষ্টা
প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা সাহসী, দায়িত্বশীল ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোই দেশের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, সরকার একা সমাজের সব প্রান্তে পৌঁছাতে পারে না; তাই মাঠপর্যায়ে কাজ করা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বরে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন এবং চ্যানেল আই যৌথভাবে আয়োজিত ‘প্রকৃতি ও জীবন–চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা এবং জীবিকাভিত্তিক উন্নয়নে যেসব প্রতিষ্ঠান মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে সরকারের সব সংস্থার সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক মানুষের জন্য ভাসমান হাসপাতালসহ উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো কেবল সেবা প্রদানই নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, হাওর এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে ভাসমান হাসপাতাল একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল হতে পারে। একই সঙ্গে একক ব্যবহার্য প্লাস্টিকমুক্ত আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, দেশের মাটিতে পাওয়া সম্মান মানুষের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয় এবং নতুন প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশনা তৈরি করে। তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রম প্রমাণ করে যে—স্বাস্থ্য, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জীবিকার সমন্বিত উদ্যোগই টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধি, গবেষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনে দীর্ঘদিনের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান-এর হাতে ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন–চ্যানেল আই প্রকৃতি সংরক্ষণ পদক ২০২৫’ তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে তাকে এক লাখ টাকার চেক এবং আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার সনদ প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালে একটি পরিত্যক্ত জ্বালানি তেলবাহী জাহাজকে হাসপাতালে রূপান্তরের মাধ্যমে ফ্রেন্ডশিপের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপদ পানি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, নাগরিক অধিকার এবং জীবিকাভিত্তিক উন্নয়নে একটি সমন্বিত মডেল হিসেবে দেশ-বিদেশে স্বীকৃত। প্রতিবছর প্রায় ৭৫ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ফ্রেন্ডশিপের কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছেন। উপকূলীয় অঞ্চলে ফ্রেন্ডশিপের ম্যানগ্রোভ বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬২ কিলোমিটার নদীতীরজুড়ে শত শত হেক্টর জমিতে বৃক্ষরোপণ করে নদীভাঙন রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তোলা হচ্ছে।