নির্বাচনী তফসিল প্রত্যাখ্যান করল আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি, তবে বয়কটের ঘোষণা নেই
বাংলাদেশে সদ্য ঘোষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। দলটি বলেছে, নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া এই তফসিল গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তফসিল প্রত্যাখ্যান করলেও দলটির পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচন বয়কটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
নির্বাচনী তফসিল প্রত্যাখ্যান করল আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি, তবে বয়কটের ঘোষণা নেই
‘অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে অবৈধ নির্বাচন’
আওয়ামী লীগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“দেশের জনগণের বৃহত্তম অংশের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক শক্তিকে বাইরে রেখে ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রত্যাখ্যান করছে।”
ভারতে অবস্থানরত দলটির শীর্ষ নেতারা ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে “একটি অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে অবৈধ নির্বাচন” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ বহু শীর্ষ নেতা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন পশ্চিমা দেশেও চলে গেছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল ও আওয়ামী লীগের অবস্থান
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশন গত মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করায় এবং সরকারের পক্ষ থেকে দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায়, এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা ব্যানারে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বিবিসি বাংলাকে বলেন,
“এটা তো অসাংবিধানিক সরকারের অবৈধ নির্বাচন। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কোনো সুযোগ আওয়ামী লীগের নেই।”
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি
আওয়ামী লীগ বলছে,
অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচন। দলটির দাবি—
-
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার
-
সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা
-
রাজনৈতিক মামলা ও হয়রানি বন্ধ
ওবায়েদুল কাদের বলেন,
“যে দলকে বাংলাদেশের অর্ধেকেরও বেশি ভোটার সমর্থন করেন, তাদের বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন প্রহসন ছাড়া কিছু নয়।”
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে কোনো নির্বাচন হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে এবং প্রতিহত করবে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা চায় আওয়ামী লীগ
এই একতরফা নির্বাচনের বিষয়ে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে দলটি। তবে এ ক্ষেত্রে ভারতের নাম উল্লেখ করেননি ওবায়েদুল কাদের।
নির্বাচন বয়কট নয়, অংশগ্রহণের আগ্রহ
নির্বাচনী তফসিল প্রত্যাখ্যান করলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কটের পথে হাঁটছে না বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন,
“আমরা নির্বাচনমুখী দল। সবসময়ই আমাদের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট ছিল। সহযোগী দলগুলো ধরলে সেটা প্রায় ৫০ শতাংশ।”
তিনি বলেন,
“ষড়যন্ত্র করে আমাদের বাইরে রেখে যে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে, তা কোনো অর্থবহ নির্বাচন হতে পারে না।”
ভোটব্যাংক নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকলেও দলটির ঐতিহ্যবাহী ‘নৌকা’ ভোটব্যাংক এখন বড় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন দল মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে সক্রিয় তৎপরতা চালাচ্ছে। কোথাও নিরাপত্তার আশ্বাস, কোথাও মামলা ও হয়রানি থেকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ভিন্নমত পোষণ করে বলেন,
“নৌকার ভোটব্যাংক এখন ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।”
আওয়ামী লীগের বার্তা
আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন—
দলটি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, নির্বাচনে বিশ্বাসী। তবে নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হলে জনগণই তাতে অংশ নেবে না।
SOURCE : BBC BANGLA