বাংলাদেশে একাত্তরের প্রজন্মকে ‘নিকৃষ্টতম’ বলায় ক্ষোভ ছড়ালো সর্বত্র

বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইসলামী বক্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। লক্ষ্মীপুরের এক মাহফিলে তিনি একাত্তরের প্রজন্মকে “নিকৃষ্টতম প্রজন্ম” আখ্যা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত দাবি করেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

PostImage

বাংলাদেশে একাত্তরের প্রজন্মকে ‘নিকৃষ্টতম’ বলায় ক্ষোভ ছড়ালো সর্বত্র


বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে কেন্দ্র করে ইতিহাসবিকৃতি ও অপমানজনক মন্তব্যের ধারাবাহিকতায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইসলামী বক্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের পার্বতীনগর এলাকায় অনুষ্ঠিত ১১তম বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে দেওয়া তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। সেখানে তাঁকে একাত্তরের প্রজন্মকে “নিকৃষ্টতম প্রজন্ম” বলে আখ্যা দিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, তিনি দাবি করছেন—একাত্তরের প্রজন্ম, তাদের নেতা ও কর্মীরা নাকি “মিথ্যাবাদী”;একাত্তরের যুদ্ধ, স্বাধীনতা—সবই নাকি “মিথ্যা”;

১৯৪৭ সালেই নাকি দেশ স্বাধীন হয়েছিল;

পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনে নাকি বাংলাদেশিরাই “৬০% যুদ্ধ করেছে”; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে তিনি “ভারতীয় চক্রান্ত” আখ্যা দেন;

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাকে তিনি “সঠিক” বলে দাবি করেন;একাত্তরে ভারত ও আওয়ামী লীগ মিলে “জাতিকে হত্যার” অভিযোগ তোলেন।

এছাড়া তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ভারতের বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশিদের “জঘন্য শত্রু” আখ্যা দিয়ে তাদের বিচারের দাবি তোলেন। তাঁর মতে, “ভারতের বন্ধুদের বাংলাদেশের কোনো চেয়ারে রাখা হবে না।”

বিতর্ক ও সমালোচনায় উত্তাল নেটদুনিয়া: কাজ্জালীপুর দারুল ফোরকান মাদ্রাসা ও স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত মাহফিলের ওই ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, গবেষক, ইতিহাসবিদ এবং সাধারণ নাগরিকরা মন্তব্যগুলোকে ইতিহাসবিকৃতি, রাষ্ট্রদ্রোহী মানসিকতা, এবং শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা বলে অভিহিত করছেন।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের প্রজন্মকে অপমান করার উদ্দেশ্য কী?ধারাবাহিকভাবে কি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে?

প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের মন্তব্যের পর নতুন বিতর্ক:

সম্প্রতি প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়। তার ঠিক পরেই কাজী ইব্রাহিমের বক্তব্য ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এ ধরনের বক্তব্য শুধু বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, বরং তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করে।


ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি:

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন সংগঠন, গবেষক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন—

মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকার করা, শহীদদের অপমান করা বা স্বাধীনতার ঘোষণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ নয়।

অনেকে দাবি তুলেছেন—ইতিহাস বিকৃতিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে;মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রচারণা রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন;জাতীয় মর্যাদা ও ইতিহাস রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর