অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে, বাড়ছে সুদের বোঝা
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ঋণের সুদ পরিশোধে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং বাড়তি ঋণ নেওয়ার চাপ ভবিষ্যৎ বাজেট ও সাধারণ মানুষের ঋণব্যয়ের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর কাছে অর্থনীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং স্বাস্থ্যসেবা এখন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু হয়ে উঠেছে। সোমবার, ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক ও এপিআই ডেটার একটি জরিপে দেখা গেছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন।
জরিপটি ৮ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিচালিত হয়। এতে ১ হাজার ২৩ জন এশীয়, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বংশোদ্ভূত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে উঠে এসেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা অর্থনীতিকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু বলেছেন এবং প্রায় ৮০ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রায় ৭০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
জরিপে আরও দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে এশীয় বংশোদ্ভূত প্রাপ্তবয়স্কদের সন্তুষ্টি কমেছে। প্রায় ২০ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, আর সামগ্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় এক-চতুর্থাংশ। তবে জরিপের ফলাফল পুরো মার্কিন জনগোষ্ঠীর মতামত হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না।
এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে বাংলাদেশি-আমেরিকানরাও রয়েছেন। যদিও জরিপটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের আলাদা করে প্রতিনিধিত্ব করে না, তবু এর বিষয়গুলো তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাড়িভাড়া, বাজারের খরচ, স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম, সন্তানের শিক্ষা এবং যাতায়াত ব্যয় অনেক পরিবারের বাজেটের ওপর প্রভাব ফেলে।
আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনগুলোর জন্য ভোট হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা করনীতি, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও অভিবাসনসংক্রান্ত আইন নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন। ফলে ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের অবস্থান ও প্রস্তাব যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
জরিপে ডেমোক্র্যাটদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসন ইস্যুতে রিপাবলিকানদের তুলনায় বেশি আস্থা প্রকাশ পেয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট দলটির সামগ্রিক ভাবমূর্তি নিয়েও উত্তরদাতাদের মত বিভক্ত ছিল। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট বিষয়ে কোনো দলের প্রতি বেশি আস্থা থাকলেও তা পুরো দলকে সমর্থন করার সমান নয়।
জরিপে ভুল তথ্য, ভোটারদের ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং নির্বাচনের ফল নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কাও উঠে এসেছে। প্রায় অর্ধেক এশীয় বংশোদ্ভূত প্রাপ্তবয়স্ক প্রার্থী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে অত্যন্ত বা খুব উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের জন্য এই জরিপের মূল বার্তা হলো, নির্বাচনের আগে স্থানীয় প্রার্থীদের অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া ও অভিবাসন বিষয়ে প্রস্তাব যাচাই করা প্রয়োজন। তবে জরিপটি কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন করার নির্দেশ দেয় না এবং নির্বাচনের ফলাফলও পূর্বনির্ধারিত করে না।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প-ডেমোক্র্যাটদের বড় লড়াই, ভোট ৩ নভেম্বর

মার্কিন এশীয় ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবা বড় ইস্যু

ডিজেলের বাড়তি দামে চাপে মার্কিন কৃষক, ট্রাম্পের গ্রামীণ ভোটে প্রভাবের আশঙ্কা


