চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন চুক্তির অভিযোগ—সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সিপিবির জাতীয় সমাবেশে উত্তাল বক্তব্য
, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অজুহাতে পশ্চিমা শক্তির জন্য একটি করিডর তৈরির চেষ্টা চলছে, যার সুফল গ্রহণ করবে বিদেশি সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, “ইউনূস সাহেব ধরা পড়ে গেছেন। তার আসল এজেন্ডা চট্টগ্রাম বন্দরকে আমেরিকান কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা। এতে বিদেশি সেনারা ঢুকে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।
চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে গোপন চুক্তির অভিযোগ—সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সিপিবির জাতীয় সমাবেশে উত্তাল বক্তব্য
দেশে অঘোষিতভাবে বহু কিছু ঘটছে এবং তার পেছনে বিদেশি শক্তির অদৃশ্য প্রভাব কাজ করছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সিপিবির জাতীয় সমাবেশে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রাম বন্দরকে গোপনে একটি মার্কিন কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছেন।
‘রোহিঙ্গা সহায়তার আড়ালে মানবিক করিডর’
সেলিম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তার অজুহাতে পশ্চিমা শক্তির জন্য একটি করিডর তৈরির চেষ্টা চলছে, যার সুফল গ্রহণ করবে বিদেশি সেনাবাহিনী। তিনি বলেন, “ইউনূস সাহেব ধরা পড়ে গেছেন। তার আসল এজেন্ডা চট্টগ্রাম বন্দরকে আমেরিকান কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা। এতে বিদেশি সেনারা ঢুকে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে।”
তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে পুনরায় বিদেশি প্রভাবের কবলে ঠেলে দেওয়ার যে উদ্যোগ চলছে, তা প্রতিহত করতে হবে।
দ্বিদলীয় ব্যবস্থার অবসান ও ‘বিকল্প শক্তির’ ডাক
সমাবেশে সেলিম বলেন, দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে এবং এ ব্যবস্থার আর কোনো সংস্করণ দেশের সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না। তার বক্তব্যে আসে কঠোর সুর:
“হাসিনা সরকারের পতনের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পুরোনো কোনো দল পূরণ করতে পারবে না। বিএনপি, এনসিপি কিংবা অন্য কোনো দলও নয়—এখন দরকার সম্পূর্ণ নতুন বিকল্প শক্তি।”
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ‘বেহাত’—ইউনূস সরকারের সমালোচনা
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান জনগণের বৈষম্য দূর ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সেই অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ। তিনি অভিযোগ করেন, নারীদের ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বরং নতুন করে লুটপাটের রাজত্ব তৈরি হয়েছে।
‘সমাজবিপ্লবীদের ঐক্য’—সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রস্তাব
সমাবেশে অংশ নিয়ে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বামপন্থী ও বিপ্লবী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিমালিকানা উচ্ছেদ করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠায় যারা বিশ্বাসী, তাদের নেতৃত্বে নতুন একটি যুক্তফ্রন্ট দরকার।
“এবারকার যুক্তফ্রন্ট হবে সমাজবিপ্লবীদের যুক্তফ্রন্ট। এর নেতৃত্ব দেবে কমিউনিস্ট পার্টি”— বলেন তিনি।
প্রতিবাদ, কর্মসূচি ও গণ–কনভেনশন
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন সমাবেশ সভাপতির বক্তব্যে অবিলম্বে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান। তিনি নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেন—
-
২৪ নভেম্বর: নির্বাচন কমিশন ঘেরাও ও সারাদেশে নির্বাচন অফিসের সামনে বিক্ষোভ
-
১৬ নভেম্বর: লালদিয়া টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভ
-
২৮ নভেম্বর: ঢাকায় নারীদের রাজনৈতিক কনভেনশন
-
২৯ নভেম্বর: বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাসদ ও বাম প্রগতিশীল শক্তির জাতীয় কনভেনশন
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রাগীব আহসান মুন্না, এস এ রশীদ, আমিনুল ফরিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও উপস্থিত ছিলেন বাসদের প্রধান উপদেষ্টা খালেকুজ্জামান ও বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া।
আদিবাসী, হরিজন ও সুফি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও সমাবেশে বক্তব্য দেন, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে আরও দৃশ্যমান করে।
মিছিল ঘুরে শেষ হয় সোহরাওয়ার্দীতে
সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষ শাহবাগ, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা কলেজ, গাউছিয়া হয়ে আবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফিরে আসে একটি বড় মিছিলসহ। রাজনৈতিক উত্তাপ, শ্লোগান ও বামপন্থী ঐক্যের বার্তায় পুরো এলাকা একসময় উত্তাল হয়ে ওঠে।
ছবি ঃ প্রথম আলো