ব্রেকিং
লাইভে খবর, পেছনে ব্যাগে হাত! সাংবাদিকের সতর্কতায় ভেস্তে গেল চুরির চেষ্টামধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেবেন ভোটাররা? ট্রাম্পের নীতির ওপর বড় পরীক্ষানিউইয়র্ক বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে অপদস্থ করার অভিযোগ, এবার আইনি পদক্ষেপের পথে সরকারস্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ রাখতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হবে: মীর শাহে আলমযুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কমল, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জ্বালানি বাজারে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেবেন ভোটাররা? ট্রাম্পের নীতির ওপর বড় পরীক্ষা

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন যুক্তরাষ্ট্র চান ভোটাররা? অর্থনীতি, অভিবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ঘিরে উত্তপ্ত হচ্ছে কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণের লড়াই।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেবেন ভোটাররা?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেবেন ভোটাররা?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩ নভেম্বর। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনের জন্য ভোট হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও আইনসভা নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নির্বাচনী আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন, অর্থনীতি তাঁদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন ৭৩ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবাকে ৬৮ শতাংশ, শিক্ষাকে ৬২ শতাংশ এবং অভিবাসনকে ৫৯ শতাংশ ভোটার।

একই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ছিল ৩০ শতাংশ। ৬৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে তাঁদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের ভূমিকা থাকবে। তাঁদের মধ্যে ৪৪ শতাংশের কাছে ভোটটি ট্রাম্পের বিরোধিতার প্রকাশ, আর ১৯ শতাংশের কাছে এটি তাঁর প্রতি সমর্থনের প্রকাশ। এসব পরিসংখ্যান জাতীয় পর্যায়ের জনমত তুলে ধরে; নির্বাচনী এলাকার ফলাফল এর সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে।

রয়টার্স ও ইপসোসের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি জরিপেও ভোটারদের আগ্রহে পার্থক্য দেখা গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন করা ভোটারদের ৪৮ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ভোট দিতে অত্যন্ত আগ্রহী। ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া সমর্থকদের মধ্যে এই হার ছিল ৩০ শতাংশ। জরিপটি ভোটারদের ঘোষিত আগ্রহ পরিমাপ করেছে; প্রকৃত ভোটদানের হার বা নির্বাচনের ফল এটি নিশ্চিত করে না। 

অর্থনীতি নির্বাচনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের চিত্রে রয়েছে ভিন্ন মাত্রা। রয়টার্সের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে দেশটির বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তবে তুলনামূলকভাবে কম বেকারত্বের হার থাকলেও মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় এবং মজুরি বৃদ্ধির সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ রয়েছে। অর্থাৎ চাকরি থাকা এবং সেই আয়ে স্বচ্ছন্দে সংসার চালাতে পারা—দুটি বিষয় ভোটারদের কাছে এক নয়।

অভিবাসন নীতিও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, বহিষ্কার কার্যক্রম এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে রিপাবলিকান সমর্থকদের ৭২ শতাংশ অভিবাসনকে ভোটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন; ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ। এ পার্থক্য দুই দলের ভোটারদের অগ্রাধিকারে ভিন্নতা তুলে ধরে।

নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও পররাষ্ট্রনীতি। পিউয়ের জরিপে ৫৭ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার পররাষ্ট্রনীতিকে ভোটের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানি বাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে সরকারের পদক্ষেপও নির্বাচনী বিতর্কে প্রভাব ফেলছে। 

নির্বাচনের ফলের প্রভাব শুধু দলীয় ক্ষমতার পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত ও নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে প্রেসিডেন্টের আইনগত ও নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বজায় থাকবে।

এবারের নির্বাচনে প্রচার ব্যয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন এবং ভোটারদের উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকানদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনগুলো নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তবে বেশি অর্থ ব্যয় করলেই আসন নিশ্চিত হয় না; স্থানীয় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, এলাকার সমস্যা এবং ভোটারদের অংশগ্রহণও ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে কেবল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে একটি দল বেছে নেওয়ার বিষয় নয়। এটি অর্থনীতি, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা প্রকাশের সুযোগ। শেষ পর্যন্ত কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটারদের উপস্থিতি এবং ভোট গণনার ফলের ওপর। বর্তমান জরিপগুলো ভোটারদের মনোভাবের একটি চিত্র দিচ্ছে, তবে সেগুলোকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখা যাবে না।

ট্যাগ: মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোন যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেবেন ভোটাররা? ট্রাম্পের নীতির ওপর বড় পরীক্ষা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।