বৈধ অভিবাসীদের স্বাস্থ্যবিমায় বড় ধাক্কা, মেডিকেইড সুবিধা হারাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বহু পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়মে শরণার্থীসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির বৈধ অভিবাসীরা হারাচ্ছেন মেডিকেইড সুবিধা, চিকিৎসার খরচ নিয়ে উদ্বেগে হাজারো পরিবার, বিকল্প বিমার খোঁজ চলছে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ফেডারেল নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট শ্রেণির বৈধ অভিবাসীরা সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেইডের সুবিধা হারিয়েছেন। এতে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিসহ অনেক পরিবারের চিকিৎসার খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাস হওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমর্থিত কর ও ব্যয়সংক্রান্ত আইনের আওতায় পরিবর্তনগুলো ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ফলে আগে মেডিকেইড পাওয়ার যোগ্যতা থাকা নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের একটি অংশ আর ফেডারেল অর্থায়নযুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন না।
স্বাস্থ্যনীতি গবেষণা সংস্থা কেএফএফের রাজ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, নয়টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ২ লাখ ৮১ হাজারের বেশি অভিবাসী অক্টোবরে মেডিকেইড সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে ছিলেন।
অ্যারিজোনায় প্রায় ২৯ হাজার এবং ফ্লোরিডায় আনুমানিক ১ লাখ ৭৭ হাজার অভিবাসীর সুবিধা বন্ধ হওয়ার হিসাব দেওয়া হয়েছে। এসব সংখ্যা সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর হিসাব ও অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি; এগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চূড়ান্ত মোট সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবর্তনের আওতায় পড়তে পারেন নির্দিষ্ট শ্রেণির শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা কিছু দোভাষী। তবে সব বৈধ অভিবাসীর মেডিকেইড সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়নি। আইন অনুযায়ী যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীদের মতো কিছু শ্রেণি এই নির্দিষ্ট পরিবর্তনের আওতার বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে, কারও সুবিধা বহাল থাকবে কি না, তা তাঁর অভিবাসনগত মর্যাদা, রাজ্যের নিয়ম এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।
মেডিকেইড স্বল্প আয়ের যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারের চিকিৎসার খরচ বহনে সহায়তা করে। এই সুবিধা হারালে চিকিৎসক দেখানো, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ কেনা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং হাসপাতালে যাওয়ার ব্যয় পরিবারের নিজস্ব অর্থ থেকে বহন করতে হতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে অ্যারিজোনার মারিয়া চাকোনের পরিবারের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ছেলে দুর্ঘটনার পর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। পরিবারটি মেডিকেইডের সহায়তায় চিকিৎসার খরচ বহন করত। সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, বীমা হারালে কিছু মানুষ চিকিৎসা পিছিয়ে দিতে পারেন বা জরুরি বিভাগের ওপর বেশি নির্ভর করতে পারেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য হলো, সরকারি সুবিধার যোগ্যতার নিয়ম আরও কঠোর করা এবং করদাতাদের অর্থের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য।
যাঁরা মেডিকেইড ব্যবহার করছেন, তাঁদের রাজ্যের মেডিকেইড অফিস থেকে পাঠানো চিঠি ও যোগ্যতা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পরীক্ষা করা উচিত। সুবিধা বন্ধ হলে সিদ্ধান্তের কারণ জানতে এবং আপিলের সুযোগ আছে কি না জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। যোগ্যতা থাকলে বিকল্প স্বাস্থ্যবিমা বা রাজ্য পরিচালিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির সুযোগও যাচাই করা উচিত। নিউইয়র্কসহ কিছু অঙ্গরাজ্য ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, তবে সুবিধা রাজ্যভেদে আলাদা।





