দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতাকেও আটক করেছে পুলিশ।

দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা
দিল্লিতে আটক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর শনিবার দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের খবর প্রকাশ করেছে ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একই দিনে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের খবর জানিয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি পক্ষপাতমূলকভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনসহ দলের আরও কয়েকজন নেতা ছিলেন। পুলিশ তাঁদের আটক করে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বিক্ষোভকারীদের চলাচলে বাধা দেওয়া হয়।

একই পরিস্থিতিতে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকেও আটক করা হয়। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়নসহ আরও কয়েকজন বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকারীর আটক হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দিল্লিতে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছিল বলে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি সংগঠনের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পুলিশি বাধা ও ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে নির্ধারিত কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়।

বিক্ষোভের মূল বিষয় ছিল ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। বিরোধী দলগুলোর দাবি, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি প্রয়োজন। তবে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, যাচাই-বাছাইয়ের সময় চিহ্নিত হওয়া নামগুলো সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ এবং যেসব যোগ্য ভোটারের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ পেতে পারেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী নেতারা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি দিল্লিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট রাখা জরুরি—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের খবরটি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, ঘটনাটিকে সরাসরি ‘গ্রেপ্তার’ বলে উল্লেখ করা সঠিক হবে না। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁকে পুলিশ কর্তৃক আটক করার কথা বলা হয়েছে। আটক-পরবর্তী আইনি অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য ছাড়া তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।

ট্যাগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকদিল্লিদিল্লি পুলিশভারতের রাজনীতিতৃণমূল কংগ্রেস

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…