নিউজার্সিতে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু, ছাব্বিশ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে

সব কাউন্টিতে মশার মধ্যে ভাইরাস শনাক্ত, ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি, সতর্ক করল স্বাস্থ্য বিভাগ

নিউজার্সিতে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু, ছাব্বিশ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে
নিউজার্সিতে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু, ছাব্বিশ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে এই বছর প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি দক্ষিণ নিউজার্সির বাসিন্দা এবং তার বয়স ষাট বছরের বেশি ছিল বলে গথামিস্ট রিপোর্ট করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ মৃত ব্যক্তির পরিচয় বা অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে এই মৃত্যু রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এই বছর এখন পর্যন্ত নিউজার্সিতে মোট ছাব্বিশ জন মানুষের শরীরে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে উনিশ জনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর, তারা স্নায়বিক অসুস্থতায় ভুগছেন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ঊনসত্তর শতাংশের বয়স ষাট বছরের বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক।

সংক্রমণের ধরণ দেখে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও উদ্বিগ্ন। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ এবং সেপ্টেম্বর মাসে চৌদ্দ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে শরৎকাল শুরু হলেও মশার মৌসুম শেষ হয়নি। অনেকেই মনে করেন লেবার ডে-র পর মশা কমে যায়, কিন্তু বাস্তবে উষ্ণ এবং বৃষ্টিবহুল আবহাওয়ার কারণে মশার বংশবিস্তার এখনও চলছে।

রাজ্যের একুশটি কাউন্টির সবগুলোতেই মশার মধ্যে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস পাওয়া গেছে। মোট এক হাজার একশ বিরাশিটি মশার নমুনা পুলে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ পাওয়া গেছে মার্সার, হাডসন, সমারসেট, বার্গেন এবং মিডলসেক্স কাউন্টিতে। এই কাউন্টিগুলো ঘনবসতিপূর্ণ এবং নিউইয়র্ক সিটির কাছাকাছি। মনমাউথ কাউন্টিতে সবচেয়ে বেশি ছয় জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, তার পরে মার্সারে চার জন এবং ক্যামডেনে তিন জন।

ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস কীভাবে ছড়ায়? এই ভাইরাস সংক্রমিত পাখির রক্ত খাওয়া মশার কামড়ে মানুষের শরীরে আসে। সরাসরি পাখি থেকে মানুষে ছড়ায় না। বেশিরভাগ মানুষ আক্রান্ত হলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু যাদের লক্ষণ দেখা যায়, তাদের জ্বর, ঠান্ডা লাগা, শরীর ব্যথা এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়। বিরল ক্ষেত্রে এটি মেনিনজাইটিস বা এনসেফালাইটিসের মতো মারাত্মক স্নায়বিক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, পেশী দুর্বলতা এবং বিভ্রান্তি। এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ এর লক্ষণ কোভিড এবং অন্যান্য সাধারণ ভাইরাসের মতো হওয়ায় শনাক্ত করতে বিশেষ ল্যাব পরীক্ষা প্রয়োজন।

গত বছরগুলোর তুলনায় এই বছরের পরিস্থিতি আরও খারাপ। দুই হাজার চব্বিশ সালে নিউজার্সিতে একচল্লিশ জন আক্রান্ত এবং আট জন মারা গিয়েছিল। সাধারণত রাজ্যে বছরে গড়ে চৌদ্দ জন আক্রান্ত হয়, কিন্তু এই বছর ইতিমধ্যে ছাব্বিশ জন, যা গত বছরের পুরো সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সারা যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত নয়শ সাতাশি জন আক্রান্তের খবর দিয়েছে সিডিসি।

স্বাস্থ্য কমিশনার ডক্টর রায়নার্ড ই. ওয়াশিংটন বলেছেন, যখন আমরা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মৃত্যু দেখি, তখন আমরা বুঝতে পারি প্রতিরোধই প্রধান চাবিকাঠি এবং আমাদের সবাইকে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মৃত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সব বাসিন্দাকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে এবং বাড়ির আশেপাশে মশার বংশবিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ কিছু সহজ পরামর্শ দিয়েছে। ইপিএ অনুমোদিত মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন, ভোর এবং সন্ধ্যায় যখন মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে তখন বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন, লম্বা হাতা এবং লম্বা প্যান্ট পরুন, শিশুদের দোলনা এবং স্ট্রলার মশারি দিয়ে ঢেকে রাখুন এবং বাড়ির উঠোনে জমে থাকা পানি ফেলে দিন। ফুলের টব, বালতি, নর্দমা এবং পাখির পানির পাত্রে পানি জমতে দেবেন না। জানালা এবং দরজার জাল ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন।

রাজ্যের কৃষি সচিব এড ওয়েনগ্রিন বলেছেন, শরৎকাল মানেই মশার মৌসুম শেষ নয়। ঠান্ডা আবহাওয়া বাইরে ঘোরার জন্য ভালো সময়, কিন্তু মশা এখনও সক্রিয় এবং ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এই খবরটি বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের দেশেও ডেঙ্গু মশার প্রকোপ রয়েছে। মশা থেকে বাঁচার উপায় প্রায় একই। সবাইকে সচেতন হতে হবে।

ট্যাগ: ওয়েস্টনাইলনিউজার্সিস্বাস্থ্যসতর্কতা

প্রতিবেদক

Tasmin Sultana

Sub- Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…