যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন, বন্ধ হচ্ছে তেল-গ্যাস উৎপাদন

২০২৬ সালের প্রথম আটলান্টিক হারিকেন ইসাইয়াস শক্তিশালী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ঝড়ের প্রভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন, বন্ধ হচ্ছে তেল-গ্যাস উৎপাদন

যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী হারিকেন, বন্ধ হচ্ছে তেল-গ্যাস উৎপাদন


যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ২০২৬ সালের প্রথম আটলান্টিক হারিকেন ইসাইয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ঝড়টি হারিকেনে পরিণত হয়েছে। তখন এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ মাইল বা ১২০ কিলোমিটার।

হারিকেনটি বৃহস্পতিবার মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে প্রায় ৪৪৫ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার রাতের দিকে এটি উত্তর উপসাগরীয় উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর আগে ঝড়টি আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঝড়টির প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে পড়তে শুরু করেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা তেল ও গ্যাস স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য বড় কয়েকটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে এবং উৎপাদন কার্যক্রম কমিয়ে দিচ্ছে। শেল ও শেভরনও তাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের কার্যক্রম সীমিত করেছে।

বুধবার পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান তেল উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ বন্ধ ছিল বলে সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে রয়টার্স। ঝড়ের কারণে আরও উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই পরিস্থিতি এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আগে থেকেই রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল নিয়ে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় তেলের বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দামও প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

হারিকেন ইসাইয়াসের কারণে শুধু তেল উৎপাদন নয়, উপকূলীয় পরিশোধনাগার ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বড় ধরনের ক্ষতি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব জ্বালানির বাজারে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতও কমেছে। ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে নেমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় এই পতন বেশি ছিল।

সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঝড়ের কারণে যদি দীর্ঘ সময় উৎপাদন ও পরিশোধন কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহের চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে এখনই দেশজুড়ে জ্বালানির দাম কতটা বাড়বে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হারিকেনের গতিপথ, ক্ষয়ক্ষতি এবং তেল উৎপাদন কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তার ওপর পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

জাতীয় আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিয়মিত সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে বলছে। বিশেষ করে ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে থাকা এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে জরুরি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

হারিকেন ইসাইয়াস তাই একই সঙ্গে আবহাওয়া, জ্বালানি ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েক দিনে ঝড়ের গতিপথ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল-গ্যাস উৎপাদন পরিস্থিতির দিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্ববাজারের নজর থাকবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর