বাংলাদেশে ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, চলছে জাতীয় অভিযান

হাম ও রুবেলার ঝুঁকি কমাতে বাংলাদেশে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার জাতীয় কর্মসূচিতে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশে ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, চলছে জাতীয় অভিযান

বাংলাদেশে ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, চলছে জাতীয় অভিযান


বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার বিস্তার ঠেকাতে ৩৪ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি চলছে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশজুড়ে শিশুদের হাম ও রুবেলার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা কিংবা অতিরিক্ত সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে—এমন শিশুদের বিশেষভাবে এই উদ্যোগের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

জাতীয় এই টিকাদান কর্মসূচি ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা জাতিসংঘের শিশু তহবিলের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকার আওতায় আনার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ঢাকার কড়াইল ও বনানী এলাকায় চলমান টিকাদান কার্যক্রমও পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত এরিক গিলান। এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

রুবেলাও একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শিশুদের টিকাদানের মাধ্যমে হাম ও রুবেলা উভয় রোগের বিরুদ্ধেই সুরক্ষা তৈরি করা সম্ভব। এ কারণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে দুই রোগের প্রতিরোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবকদের টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে জানাচ্ছেন। যেসব পরিবার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়েছে, তাদের সন্তানদের টিকাদানের আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সহায়তা তাদের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কৌশলের আওতায় দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার ঝুঁকি মোকাবিলায় শিশুদের সুরক্ষা বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া সংক্রামক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়। কোনো এলাকায় টিকাদানের হার কমে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নির্ধারিত বয়সে শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকা নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। এর পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত টিকাদান কর্মসূচি নেওয়া হয়, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনা যায়।

চলমান কর্মসূচিতে ৩৪ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য এটি বড় ধরনের কার্যক্রম। প্রত্যন্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা শুধু একটি শিশুকে সুরক্ষা দেয় না; ব্যাপক টিকাদানের মাধ্যমে সমাজে সংক্রমণের বিস্তারও কমানো সম্ভব। বিশেষ করে যেসব শিশু বয়স বা শারীরিক অবস্থার কারণে কিছু রোগের বিরুদ্ধে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, তাদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ।

অভিভাবকদের সন্তান টিকাদানের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছালে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে কর্মসূচির তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কোনো শিশুর আগে টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, অতিরিক্ত টিকা প্রয়োজন কি না এবং নির্দিষ্ট কেন্দ্রে কখন টিকা দেওয়া হচ্ছে এসব তথ্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে হাম ও রুবেলার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে চলমান এই কর্মসূচিতে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দাতা সহযোগিতার সমন্বয় করা হচ্ছে। ৩৪ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য পূরণ হলে শিশুদের সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর