ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ১৭০ কোটি ডলারের বসনিয়া প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় বড় জ্বালানি প্রকল্পে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা ওয়াশিংটনের প্রভাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ১৭০ কোটি ডলারের বসনিয়া প্রকল্প ঘিরে প্রশ্ন
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় প্রায় ১৭০ কোটি ডলার মূল্যের একটি বড় জ্বালানি অবকাঠামো প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি ছোট প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী জেসি বিনাল এবং ট্রাম্পের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের ভাই জোসেফ ফ্লিন।
প্রকল্পটি হলো Southern Interconnection Gas Pipeline—যা বসনিয়াকে ক্রোয়েশিয়ার গ্যাস নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মাধ্যমে ক্রোয়েশিয়ার ক্র্ক দ্বীপের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস বসনিয়ায় পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো রুশ গ্যাসের ওপর বসনিয়ার নির্ভরতা কমানো এবং দেশটির জ্বালানি সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করা।
AAFS Infrastructure & Energy নামের প্রতিষ্ঠানটি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বসনিয়ার ফেডারেশন পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রকল্পটির প্রধান বিনিয়োগকারী ও নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মনোনীত করে।
তবে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে AAFS-কে প্রকল্পটির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় এবং হোয়াইট হাউস এই প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
বিতর্কের আরেকটি কেন্দ্রীয় বিষয় হলো বসনিয়ান সার্ব নেতা মিলোরাড ডোডিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের অক্টোবরে ডোডিকের ওপর আগে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর কয়েক মাস পর ডোডিক দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের পথে বাধা না দেওয়ার অবস্থান নেন।
CBS News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোডিকের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পাইপলাইন প্রকল্পে তার অবস্থান পরিবর্তনের মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রশ্ন তুলেছেন।
তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ডোডিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্দেশ্য ছিল বলকান অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা ঠেকানো। প্রশাসন এটিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে AAFS-এর প্রকল্পে সরাসরি সম্পৃক্ততা নিয়ে আরও প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতা নিয়ে। CBS News জানিয়েছে, একই ধরনের বড় জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির নেই।
বসনিয়ার জন্য প্রকল্পটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বর্তমানে রুশ গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। নতুন পাইপলাইন চালু হলে ক্রোয়েশিয়ার এলএনজি অবকাঠামোর মাধ্যমে বিকল্প গ্যাস সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারের সঙ্গে বসনিয়ার সংযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বসনিয়ার রাজনৈতিক কাঠামো অত্যন্ত জটিল হওয়ায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অংশের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এখন প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও নজর বাড়ছে।