ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস, উত্তাল লিয়ন ও স্ট্রাসবুর্গ

ফ্রান্সজুড়ে জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, শিক্ষক সংকট ও অতিরিক্ত শিক্ষার্থীসংখ্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস, উত্তাল লিয়ন ও স্ট্রাসবুর্গ

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস, উত্তাল লিয়ন ও স্ট্রাসবুর্গ


ফ্রান্সের লিয়ন ও স্ট্রাসবুর্গে শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দেশজুড়ে শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনা ও জরাজীর্ণ স্কুল অবকাঠামোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শ্রেণিকক্ষগুলো অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ এবং ভবনগুলোর অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অবনতিশীল। কোথাও পানি পড়া ও ইঁদুরের উপদ্রবের মতো মৌলিক রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যারও অভিযোগ উঠেছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ন ও স্ট্রাসবুর্গে বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। দেশটির বিভিন্ন শহরে কিছু বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি স্থানে আগুন, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের হিসাবে, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়। পুলিশ ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, সংঘর্ষে অন্তত ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, শ্রেণিকক্ষের অতিরিক্ত চাপ কমানো, দীর্ঘ স্কুল সময় পুনর্বিবেচনা এবং পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের সংস্কার।


সরকার অক্টোবরের শেষ নাগাদ শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো নিয়ে প্রাথমিক সংস্কার প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে ফ্রান্সের বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতির কারণে শিক্ষাখাতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ফ্রান্সে সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই শিক্ষার্থী আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। শত শত স্কুল অবরোধ বা আংশিকভাবে বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।


বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের শক্তি প্রয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ও কিছু আন্দোলনকারী অভিযোগ করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। এ ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষ তদন্তও শুরু করেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর