ওয়াল স্ট্রিটে আজ আবার নতুন রেকর্ড, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক সর্বোচ্চ উচ্চতায়

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে উত্থান, সুদের চাপ কমায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আশাবাদে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক নতুন রেকর্ড গড়েছে আজ বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাসে।

ওয়াল স্ট্রিটে আজ আবার নতুন রেকর্ড, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক সর্বোচ্চ উচ্চতায়

ওয়াল স্ট্রিটে আজ আবার নতুন রেকর্ড, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক সর্বোচ্চ উচ্চতায়


যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে আবারও বড় উত্থান দেখা গেছে। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক সূচক নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে বাড়তে থাকা আশাবাদ, সরকারি বন্ডের সুদের হার কিছুটা কমে আসা এবং জ্বালানি তেলের দামে পতন বাজারকে শক্তিশালী করেছে।

রয়টার্সের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার দিনের লেনদেনে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ৭ হাজার ৮৪০ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে উঠেছিল। নাসডাক সূচক বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৭০৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে। ডাও জোন্স শিল্পসূচকও প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৫১ হাজার ৬২৬ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে পৌঁছায়।


বাজারের এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত সম্প্রসারণ আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয় ও ব্যবসা আরও বাড়াতে পারে। ফলে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ বাড়ছে।


এদিন এনভিডিয়ার শেয়ারও বেড়েছে। কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত চিপ তৈরিতে এনভিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকায় কোম্পানিটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।


শুধু এনভিডিয়া নয়, মেটা, টেসলা, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো বড় প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারও মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এসব কোম্পানির শক্তিশালী অবস্থান পুরো প্রযুক্তি খাতের বাজারমূল্য বাড়াতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে চিপ নির্মাতা মার্ভেল টেকনোলজি ও এএমডির শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।


মার্ভেল টেকনোলজি ভবিষ্যৎ আয় সম্পর্কে ইতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ার প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে এএমডির শেয়ার বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এএমডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা সু জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপের চাহিদা পূরণে কোম্পানি ২০২৭ সালে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।


বাজারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারি বন্ডের সুদের হার। সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন বন্ডের সুদের হার কয়েক বছরের মধ্যে তুলনামূলকভাবে উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এতে শেয়ারবাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই চাপ কিছুটা কমে আসে। ১০ বছরের মার্কিন সরকারি বন্ডের সুদের হারও কমেছে। বিনিয়োগকারীরা এটিকে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন।


সাম্প্রতিক দুর্বল কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের কারণেও অক্টোবর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। বাজারের হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা প্রায় ৭৯ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে ডিসেম্বরের সুদের হার নিয়ে বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।


জ্বালানি তেলের দাম কমে আসাও বাজারকে স্বস্তি দিয়েছে। মঙ্গলবার তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ অব্যাহত থাকা এবং জি-৭ দেশগুলোর জরুরি তেল মজুত ব্যবহারের উদ্যোগ সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে। তেলের দাম কমলে পরিবহন, উৎপাদন ও অন্যান্য খাতে খরচের চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর তৃতীয় প্রান্তিকের আয় প্রতিবেদন সামনে আসছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের কোম্পানিগুলোর তৃতীয় প্রান্তিকের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী ব্যবসা এই প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হতে পারে।

শেয়ারবাজারের এই উত্থান সাধারণ আমেরিকান পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অবসরকালীন সঞ্চয়, বিনিয়োগ হিসাব এবং অনেক কর্মীর অবসর তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারের সঙ্গে যুক্ত। ফলে বাজার বাড়লে অনেক বিনিয়োগকারীর সম্পদের মূল্য বাড়তে পারে। তবে একই সঙ্গে বাজারের রেকর্ড উচ্চতা মানেই অর্থনীতির প্রতিটি অংশ শক্তিশালী—এমনটা বলা যায় না।

কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়েছে। এপি জানিয়েছে, শেয়ারবাজারের উত্থান চললেও মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধ এবং বন্ডবাজারের চাপ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি।


এখন বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হবে আসন্ন কোম্পানি আয় প্রতিবেদন। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো ফলাফল দিতে পারলে বাজারের বর্তমান উত্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিপরীতে আয় প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল হলে রেকর্ড উচ্চতায় থাকা বাজারে দ্রুত দরপতনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে বর্তমান পরিস্থিতি তাই একই সঙ্গে আশাবাদ ও সতর্কতার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি কোম্পানির আয় এবং সুদের হার বাজারকে ইতিবাচক রাখছে। কিন্তু উচ্চ মূল্যায়ন, মূল্যস্ফীতি, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভবিষ্যৎ সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করছে।

সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাকের রেকর্ড উচ্চতা দেখাচ্ছে, বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ এখনো মার্কিন করপোরেট আয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর আস্থা রাখছেন। তবে এই রেকর্ড কতদিন ধরে রাখা যাবে, সেটিই এখন ওয়াল স্ট্রিটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর