ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারে জয়শঙ্কর-পাপারো বৈঠক
ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও মার্কিন অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো বৈঠক করেছেন।
ইন্দো-প্যাসিফিকে নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারে জয়শঙ্কর-পাপারো বৈঠক
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা অংশীদারত্ব ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল জে. পাপারো। ৪ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর জানান, তিনি ইউএসপ্যাকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল পাপারোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুই দেশের নিরাপত্তা অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডমিরাল পাপারো ৩ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছয় দিনের সরকারি সফরে ভারত রয়েছেন। এই সফরের লক্ষ্য ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা গভীর করা। সফরকালে তিনি ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করছেন।
সফরের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন নিরাপত্তা অগ্রাধিকার, ডিজিটাল রূপান্তর, উদীয়মান গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি, আঞ্চলিক কৌশলগত স্থিতিশীলতা এবং প্রতিরক্ষা খাতে জ্বালানি সক্ষমতা জোরদার করা। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, উদীয়মান প্রযুক্তি থেকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামুদ্রিক সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সামরিক সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতায় ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে এবারের বৈঠক থেকে কোনো নতুন সামরিক চুক্তি, মহড়া বা নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারত–যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকে সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা।