বিএনপি নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

হাসপাতালে চিকিৎসক, নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রভাব—দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবার পরিচালককে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা। বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি পরিচালকের কক্ষে ঢুকে তাকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

বিএনপি নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

বিএনপি নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ


দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমাদের টিম গিয়ে দেখতে পায়, আজ সোমবার হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে হঠাৎ করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদ হোসেন প্লাবনসহ একদল ব্যক্তি পরিচালকের কক্ষে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ফরহাদ হোসেন প্লাবন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তিনি দিনাজপুর স্বেচ্ছাসেবক দলের পৌর সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বখতিয়ার আহমেদ কচির নির্দেশেই প্লাবনকে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরিচালকের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে সেখানে লোকজন পাঠানোর অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনার সময় পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের Facility Registry-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবির।

চিকিৎসক লাঞ্ছনার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ

একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের নিজ কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং রোগীসেবার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগেও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক লাঞ্ছনার অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি এবং নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনের ঘটনা ঘটেছিল। ফলে হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিএনপির নাম ব্যবহার করে ‘মাফিয়া রাজনীতি’র অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবকে ব্যবহার করে বখতিয়ার আহমেদ কচি, ফরহাদ হোসেন প্লাবনসহ একটি গ্রুপ দিনাজপুরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ‘মাফিয়া রাজনীতি’র অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাধারণ মানুষ এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলে তা শুধু স্থানীয় রাজনীতির জন্য নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্যই উদ্বেগজনক।

বখতিয়ার আহমেদ কচিকে ঘিরে আগের বিতর্ক

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচিকে ঘিরে এর আগেও দলীয় পর্যায়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও আচরণ নিয়ে দলের ভেতরেও অসন্তোষ তৈরি হওয়ার কথা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অতীতের এসব বিতর্কের পরও তিনি পুনরায় রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের দাবি, তার নেতৃত্বাধীন বা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির রাজনৈতিক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো কর্মকর্তা বা চিকিৎসককে হেনস্তা, লাঞ্ছিত কিংবা ভয়ভীতি দেখানোর সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

তারা বখতিয়ার আহমেদ কচি, ফরহাদ হোসেন প্লাবনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।ঘটনাটি নিয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর