নিউইয়র্কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চুনারুঘাটের ২৪ বছরের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী শাহ আহসান আরদি নিহত
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ভোরের সড়ক দুর্ঘটনায় চুনারুঘাটের তরুণ তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী শাহ আহসান আরদির আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও প্রবাসীদের মধ্যে শোক নেমেছে।
নিউইয়র্কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চুনারুঘাটের ২৪ বছরের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী শাহ আহসান আরদি নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরের ব্রঙ্কসে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার তরুণ শাহ আহসান আরদি। বয়স মাত্র ২৪ বছর। স্থানীয় সময় শনিবার, ৩ অক্টোবর ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে মেজর ডিগান মহাসড়কের ম্যাকম্বস ড্যাম সেতুর কাছাকাছি উত্তরমুখী পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্কের পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরদি মোটরসাইকেল চালিয়ে উত্তরমুখী পথে যাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের রক্ষাবেষ্টনীতে আঘাত করেন। সংঘর্ষের তীব্রতায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে মহাসড়কের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত তরুণের নাম শাহ মো. আরদি এবং তিনি আরদি শাহ নামেও পরিচিত ছিলেন। তার দেশের বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ৬ নম্বর সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে। পরিবারের পক্ষ থেকে তার চাচা ও চুনারুঘাট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরিবারের স্বজনদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আরদি যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার ভোরে কাজ শেষ করে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার সময় তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।
পারিবারিক পরিচয়ের দিক থেকেও আরদি চুনারুঘাটের একটি পরিচিত পরিবারের সন্তান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে। এই পরিচয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশের সঙ্গে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আরদি উত্তরমুখী পথে যাচ্ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি সড়কের গতিপথ ঠিকভাবে অনুসরণ করতে না পেরে রক্ষাবেষ্টনীতে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষের পর তিনি যান থেকে ছিটকে মহাসড়কের ওপর পড়ে যান। তার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে। জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে পরীক্ষা করেন এবং সেখানেই তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
দুর্ঘটনার পর মেজর ডিগান মহাসড়কের উত্তরমুখী সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় চার ঘণ্টা উত্তরমুখী পথ বন্ধ থাকার পর সকাল ৯টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনার কারণে ওই সময় মহাসড়ক ব্যবহারকারী যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সংঘর্ষ তদন্তকারী দল ঘটনাটির তদন্ত করছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে অন্য কোনো যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের খবরও পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, মোটরসাইকেলের গতি, সড়কের অবস্থা কিংবা অন্য কোনো বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান।
ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পুলিশের প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহত ব্যক্তিকে পরিচয় প্রকাশের আগে ২৪ বছর বয়সী দুই চাকার যানচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম তার নাম শাহ আহসান আরদি হিসেবে প্রকাশ করে। বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো পরিবারের স্বজনদের উদ্ধৃত করে তার বাংলাদেশি পরিচয়, চুনারুঘাটের বাড়ি এবং তথ্যপ্রযুক্তি পেশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক তথ্য মিলিয়ে দেখলে দুর্ঘটনার মূল ঘটনাটি নিশ্চিত হলেও কিছু পারিবারিক ও পেশাগত তথ্য স্থানীয় সূত্রনির্ভর।
আরদির মৃত্যুর খবর চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের নেতারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও স্বজনদের জন্য গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শাহ মো. আরদির জানাজার সময় ও স্থান পরে জানানো হবে। এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বাড়ি চুনারুঘাটের ফুলবাড়ী গ্রাম এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তার স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তরুণ এই তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলীর অকাল মৃত্যু নিয়ে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের ব্যস্ত মহাসড়কে ভোররাতের এই দুর্ঘটনা আবারও দুই চাকার যানচালকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আরদির দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গতি, অসতর্কতা, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পুলিশের তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হওয়ার পরই এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে বলা সম্ভব হবে। বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো, ৩ অক্টোবর ভোরে মেজর ডিগান মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী শাহ আহসান আরদি নিহত হয়েছেন এবং ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।