রাশিয়ার পুরোনো পারমাণবিক কেন্দ্র ভাঙতে বিল কে দেবে, বাড়ছে বড় প্রশ্ন
রাশিয়ার পুরোনো পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ ও ভেঙে ফেলতে বিপুল অর্থ প্রয়োজন, কিন্তু সেই অর্থের জোগান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
রাশিয়ার পুরোনো পারমাণবিক কেন্দ্র ভাঙতে বিল কে দেবে, বাড়ছে বড় প্রশ্ন
রাশিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর একটি বড় অংশ এখন বয়সের ভারে পুরোনো হয়ে পড়েছে। কয়েকটি চুল্লি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। কিছু পুরোনো কেন্দ্র ইতোমধ্যে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে, আবার কয়েকটির কার্যকাল বাড়িয়ে চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর একটি পারমাণবিক কেন্দ্রকে পুরোপুরি নিরাপদ অবস্থায় নিয়ে আসা এবং শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলার কাজ অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি। এখন রাশিয়ার সামনে বড় প্রশ্ন হলো, এই বিশাল ব্যয়ের অর্থ শেষ পর্যন্ত কে দেবে।
৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত আল জাজিরার একটি বিশ্লেষণে রাশিয়ার পুরোনো পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর ভবিষ্যৎ ব্যয় নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রোসএনার্গোঅ্যাটম ৩৫টি চুল্লি ধাপে ধাপে বন্ধ ও ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী এ কাজের মোট ব্যয় প্রায় ২১ বিলিয়ন ইউরো হতে পারে। একই হিসাবে অর্থের ঘাটতি প্রায় ১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় ঘাটতির পরিমাণই বিপুল।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই ২১ বিলিয়ন ইউরোর হিসাবটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার স্বাধীন হিসাব নয়। এটি রোসএনার্গোঅ্যাটমের নিজস্ব হিসাব হিসেবে আল জাজিরার বিশ্লেষণে উপস্থাপিত হয়েছে। তাই এটিকে চূড়ান্ত ও নিশ্চিত ব্যয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাস্তবে একটি পারমাণবিক কেন্দ্র ভেঙে ফেলার ব্যয় নির্ভর করে কেন্দ্রের নকশা, চুল্লির ধরন, তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের পরিমাণ, জ্বালানি সরানোর খরচ, জমি পরিষ্কার করা এবং কত বছর ধরে নিরাপদ সংরক্ষণ করতে হবে তার ওপর। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও রাশিয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা ও আয়ুষ্কাল বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে।
রাশিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর বয়সের বিষয়টি অবশ্য নতুন কোনো দাবি নয়। বিশ্ব পারমাণবিক শিল্পের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় বর্তমানে ৩৪টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী পারমাণবিক চুল্লি চালু রয়েছে এবং মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ২৭ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট। একই সঙ্গে কয়েকটি পুরোনো চুল্লি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও কিছু চুল্লি ধীরে ধীরে বন্ধ করার পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষ করে কুর্স্ক, লেনিনগ্রাদ ও বেলোইয়ার্স্কের মতো কেন্দ্রগুলো রাশিয়ার পুরোনো পারমাণবিক অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। কুর্স্ক কেন্দ্রের প্রথম চুল্লি ২০২১ সালে এবং দ্বিতীয় চুল্লি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়। দুটি চুল্লিই ছিল পুরোনো ধরনের আরবিএমকে চুল্লি, যেগুলোর নকশা চেরনোবিল দুর্ঘটনার সঙ্গে একই ঐতিহাসিক প্রযুক্তি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। রাশিয়া ইতোমধ্যে পুরোনো কেন্দ্রের জায়গায় নতুন প্রজন্মের চুল্লি বসানোর কাজও শুরু করেছে।
কুর্স্কের দ্বিতীয় কেন্দ্রের নতুন চুল্লি এরই মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে। রাশিয়ার পরিকল্পনা হলো পুরোনো চুল্লিগুলো ধাপে ধাপে সরিয়ে নতুন চুল্লি দিয়ে উৎপাদন ধরে রাখা। ক্রেমলিনের সাম্প্রতিক তথ্যেও বলা হয়েছে, কুর্স্ক, লেনিনগ্রাদ ও স্মোলেনস্কের নতুন কেন্দ্রগুলো পুরোনো চুল্লির জায়গা পূরণ করার জন্য এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়া স্বীকার করছে যে সামনে পুরোনো চুল্লিগুলো ব্যাপকভাবে বন্ধ করার সময় আসছে।
কিন্তু নতুন কেন্দ্র নির্মাণ আর পুরোনো কেন্দ্র ভেঙে ফেলা একই ধরনের ব্যয় নয়। নতুন কেন্দ্র থেকে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করা সম্ভব। বিপরীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি কেন্দ্র ভেঙে ফেলার সময় সরাসরি নতুন কোনো আয় তৈরি হয় না। বরং তেজস্ক্রিয় জ্বালানি সরানো, যন্ত্রপাতি বিচ্ছিন্ন করা, দূষিত উপকরণ আলাদা করা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়।
রাশিয়ায় এই ব্যয়ের একটি অংশের জন্য বিশেষ তহবিল ব্যবস্থার কথা রয়েছে। বিশ্ব পারমাণবিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন করে তৈরি হওয়া বর্জ্যের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর থাকে এবং এর জন্য অর্থ বিশেষ তহবিলে জমা করার ব্যবস্থা রয়েছে। রোসাটমের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কেন্দ্র বন্ধ করার কাজে যুক্ত।
সমস্যা হলো, একটি পারমাণবিক কেন্দ্রের দায় কয়েক দশক পর্যন্ত থাকতে পারে। কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব ঝুঁকি শেষ হয়ে যায় না। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি, তেজস্ক্রিয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য বর্জ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিভিন্ন নথিতেও দেখা যায়, পারমাণবিক কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল শেষ হওয়ার পরও নিরাপদ ব্যবস্থাপনা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হয়।
রাশিয়ার পুরোনো কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কার্যকাল বাড়িয়ে দেওয়া। রাশিয়ার সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু চুল্লির কার্যকাল মূল পরিকল্পিত সময়ের বাইরে বাড়ানো হয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ২৮টি চুল্লির কার্যকাল বাড়ানোর কথা রুশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখা এবং নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত পুরোনো কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করা।
বিশ্ব পারমাণবিক সমিতির সাম্প্রতিক তথ্যও বলছে, দীর্ঘদিন চালু থাকা চুল্লিগুলোর ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে নিরাপদ পরিচালনা সম্ভব হতে পারে। তাই শুধু বয়স বেশি হলেই কোনো চুল্লি অনিরাপদ—এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে ঠিক নয়। তবে যত বেশি সময় কোনো কেন্দ্র চালু রাখা হয়, তার যন্ত্রপাতি, কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বন্ধ করার ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চাপ আসতে পারে একসঙ্গে অনেক পুরোনো কেন্দ্র বন্ধ করার সময়। একটি কেন্দ্র বন্ধ করা যেমন ব্যয়বহুল, একই সময়ে বহু কেন্দ্রের জ্বালানি সরানো ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও বড় আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়ার পরিকল্পনায় ৩৫টি চুল্লি বন্ধ করার বিষয় রয়েছে এবং এই কারণেই অর্থের ঘাটতির প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
এখানে অতীতের উদাহরণও গুরুত্বপূর্ণ। লিথুয়ানিয়ার ইগনালিনা পারমাণবিক কেন্দ্রের দুটি পুরোনো চুল্লি বন্ধ করার পর সেগুলো ভেঙে ফেলার কাজ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় নিয়েছে এবং ব্যয়ও বেড়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছিল এবং তখনও পরিকল্পিত কাজের অর্ধেকেরও কম শেষ হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমাও পরে আরও পিছিয়ে যায়।
জার্মানির লুবমিন কেন্দ্রের উদাহরণও ব্যয়ের অনিশ্চয়তা বোঝায়। সেখানে কেন্দ্র ভেঙে ফেলার প্রাথমিক ব্যয়ের হিসাব ছিল প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরো, পরে তা প্রায় ১০ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত বেড়েছে বলে আল জাজিরার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই তুলনাগুলো বিভিন্ন দেশের আলাদা প্রযুক্তি, আইন ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর কারণে রাশিয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি একই হারে প্রযোজ্য হবে না।
রাশিয়ার পারমাণবিক বর্জ্যের প্রশ্নটিও বড়। আল জাজিরার বিশ্লেষণে সোভিয়েত আমল থেকে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পুরোনো কেন্দ্রগুলো ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে নতুন বর্জ্যও তৈরি হবে। ফলে শুধু চুল্লি ভেঙে ফেলার অর্থ থাকলেই হবে না, সেই বর্জ্য কোথায় রাখা হবে, কতদিন রাখা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিও বড় প্রশ্ন।
রাশিয়া অবশ্য পুরো বিষয়টি উপেক্ষা করছে এমন বলা ঠিক হবে না। সরকারি কর্মসূচির আওতায় পুরোনো পারমাণবিক ও বিকিরণঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করার কাজ চলছে। বিশ্ব পারমাণবিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে তিনটি পারমাণবিক ও বিকিরণঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা বন্ধ করা হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে এমন ৫৬টি স্থাপনা বন্ধ করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে রোসাটম জানিয়েছে।
তাই এই প্রতিবেদনের মূল প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো, রাশিয়ার পুরোনো পারমাণবিক কেন্দ্র ভাঙার অর্থের প্রধান দায়িত্ব রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক খাত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরই থাকার কথা। কিন্তু যদি দীর্ঘমেয়াদি তহবিল প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, ব্যয় দ্রুত বেড়ে যায় অথবা একসঙ্গে অনেক কেন্দ্র বন্ধ করতে হয়, তখন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ বা জনগণের করের অর্থের ওপর চাপ পড়তে পারে। তবে রাশিয়া সরকার ভবিষ্যতে ঠিক কী পরিমাণ অর্থ কোথা থেকে দেবে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য ও পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন হিসাব এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে না।
ফ্যাক্ট যাচাই করে বলা যায়, রাশিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর বয়স বাড়ছে, একাধিক পুরোনো চুল্লি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে এবং আরও চুল্লি ভবিষ্যতে বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে—এসব তথ্য শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু ২১ বিলিয়ন ইউরো মোট ব্যয় এবং ১৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ইউরো ঘাটতির সংখ্যাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, রোসএনার্গোঅ্যাটমের হিসাবভিত্তিক একটি অনুমান হিসেবে উপস্থাপন করাই সঠিক। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।
রাশিয়া একদিকে পুরোনো চুল্লি সরিয়ে নতুন পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণ করছে, অন্যদিকে বিদেশেও নতুন পারমাণবিক প্রকল্পে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের সাফল্যের পাশাপাশি পুরোনো কেন্দ্র বন্ধ করার অর্থনৈতিক দায়ও সামনে আসছে। পারমাণবিক বিদ্যুতের পুরো জীবনচক্রে শুধু কেন্দ্র নির্মাণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব নয়, কয়েক দশক পর সেই কেন্দ্র নিরাপদে বন্ধ করে দেওয়ার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। রাশিয়ার ক্ষেত্রে সেই ভবিষ্যৎ ব্যয় এখন আর দূরের কোনো বিষয় নয়; পুরোনো চুল্লিগুলো অবসরের পথে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।