রিয়াদে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বৈঠক
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদে বৈঠকে বসছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে হবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
রিয়াদে তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা বৈঠক
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠক আগামী ৫ অক্টোবর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে তিন দেশের কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং চুক্তির আওতায় গড়ে ওঠা প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন।
বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়ারশার গুলের এবং দেশটির জেনারেল স্টাফপ্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু অংশ নেবেন। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। তুরস্কের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং তিন দেশের যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বৈঠকটি এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। একই সময়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে ইরানের একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রিয়াদের বৈঠকে বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
তিন দেশ গত ৭ আগস্ট ২০২৬ মক্কায় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় সমন্বিতভাবে কাজ করা। চুক্তির আওতায় পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও সামরিক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে এই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তিন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার বিষয়ে একমত হয় এবং সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদের বৈঠকে মূলত আঞ্চলিক সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং তিন দেশের জোটকে প্রাতিষ্ঠানিক করার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের চলমান পরিস্থিতি এবং হুথিদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যোগাযোগের সম্ভাবনাও বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। তবে রিয়াদের বৈঠক থেকে কী ধরনের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসে, তা বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করবে।