ট্রাম্পের চাপেও নতি নয়, ঘড়ির কাঁটা বদল বন্ধে কটনের কড়া অবস্থান অটল
ট্রাম্পের প্রকাশ্য চাপের পরও টম কটন ঘড়ির কাঁটা বদল বন্ধের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে অন্ধকারে স্কুলযাত্রার ঝুঁকির কথা তুলেছেন আবার।
ট্রাম্পের চাপেও নতি নয়, ঘড়ির কাঁটা বদল বন্ধে কটনের কড়া অবস্থান অটল
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়ার দীর্ঘদিনের নিয়ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন দেশজুড়ে গ্রীষ্মকালীন সময় সারা বছর কার্যকর থাকুক। অন্যদিকে কটন বলছেন, শীতকালে এর ফলে দিনের শুরুতে ভয়াবহ অন্ধকার তৈরি হবে এবং সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে স্কুলগামী শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও ভোরে কাজে বের হওয়া নাগরিকেরা।
৩ অক্টোবর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটনকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, আরকানসাসের মানুষের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করে তাঁকে প্রস্তাবটি এগিয়ে নিতে বলা উচিত। একইসঙ্গে ট্রাম্প এমন একটি মুঠোফোন নম্বর প্রকাশ করেন, যেটিকে তিনি কটনের ব্যক্তিগত নম্বর হিসেবে উল্লেখ করেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম নম্বরটিতে যোগাযোগের চেষ্টা করে এবং কটনের কার্যালয়ের প্রকাশ্য নম্বরগুলোর সঙ্গে এর মিল না থাকার কথাও জানানো হয়েছে। ফলে এটি কটনের ব্যক্তিগত নম্বর কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের অবস্থান হলো, বছরে দুবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন করা অপ্রয়োজনীয় এবং এর কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তাঁর মতে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত আলো থাকলে খেলাধুলা, কৃষিকাজ, বাইরে চলাচলসহ নানা কর্মকাণ্ডে সুবিধা হবে। তিনি আরও দাবি করেছেন, দীর্ঘ সন্ধ্যার আলো জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তবে এসব সুবিধার সবগুলো নিয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য নেই।
অন্যদিকে টম কটনের আপত্তির মূল জায়গা হলো শীতকালের সূর্যোদয়ের সময়। তিনি বলেছেন, ঘড়ির কাঁটা স্থায়ীভাবে এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখলে শীতের সকালে সূর্য অনেক দেরিতে উঠবে। ফলে শিশুরা অন্ধকারে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হবে এবং ভোরে কর্মস্থলে যাওয়া মানুষের চলাচলেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। কটন এর আগেও একই যুক্তিতে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করার চেষ্টা করেছিল এবং পরে জনঅসন্তোষের কারণে তা বাতিল করা হয়।
এই ঐতিহাসিক যুক্তিটির পেছনে বাস্তব ঘটনা রয়েছে। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছর গ্রীষ্মকালীন সময় চালু করা হয়েছিল। কিন্তু শীতকালে ভোরের অন্ধকার নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। কয়েক মাসের মধ্যেই কংগ্রেস সেই ব্যবস্থা বাতিল করে। কটন তাঁর বর্তমান অবস্থানের পক্ষে ওই অভিজ্ঞতাকেই গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
প্রস্তাবটি নিয়ে চলমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন বন্ধ করতে চাইলেও কোন সময়টি স্থায়ী করা হবে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ সারা বছর গ্রীষ্মকালীন সময় চান, আবার কেউ সারা বছর স্বাভাবিক সময় রাখার পক্ষে। ফলে শুধু ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন বন্ধ করার বিষয়ে সমর্থন থাকলেই ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন নিশ্চিত হয় না।
আইনটি এরই মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে ৩০৮-১১৭ ভোটে পাস হয়েছে। কিন্তু সিনেটে এটি এখনো বাধার মুখে রয়েছে। কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও এর বিরোধিতা করছেন। ফলে কটনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাঁকে এককভাবে পুরো প্রক্রিয়া আটকে রাখার একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা অতিরঞ্জিত হবে।
ট্রাম্পের চাপের পর কটনের প্রকাশ্য জবাব অবশ্য তাঁর অবস্থান বদলের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং তিনি বলেছেন, কেউ ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তন পছন্দ না করলেও অতীতে স্থায়ী গ্রীষ্মকালীন সময় চালুর সিদ্ধান্ত বারবার বাতিল হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, তিনি আরকানসাসের মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, ট্রাম্পের সরাসরি চাপ কটনকে অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারবে কি না। আপাতত তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ঘটনাটি রিপাবলিকান দলের ভেতরে একটি তুলনামূলক বিরল প্রকাশ্য মতবিরোধ সামনে এনেছে। ট্রাম্প দ্রুত আইনটি পাস করে একটি রাজনৈতিক সাফল্য দেখাতে চাইছেন, আর কটন বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরকানসাসের মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতাই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিটির কেন্দ্রীয় অংশ সত্য হলেও “কটন একাই আইনটি আটকে রেখেছেন” কথাটি নিশ্চিত তথ্য নয়। বাস্তবতা হলো, প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পরও প্রস্তাবটি সিনেটে আটকে আছে এবং কটনসহ একাধিক রিপাবলিকান সদস্য এর বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্পের প্রকাশ্য চাপের পর কটনও নিজের বিরোধিতা প্রত্যাহার না করে বরং আরও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।