গাজীপুরের মেট্রিক্স গার্মেন্টসে ভয়াবহ আগুন, সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার ৭০ জন
গাজীপুরের মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন লাগার পর ভবনের ভেতরে আটকে পড়া কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
গাজীপুরের মেট্রিক্স গার্মেন্টসে ভয়াবহ আগুন, সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার ৭০ জন
গাজীপুর মহানগরের ডেগেরচালা এলাকার ফকির মার্কেটে মেট্রিক্স গার্মেন্টসের একটি কারখানা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ৩ অক্টোবর দুপুর পৌনে ৩টার দিকে ভবনটির তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একাধিক ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়লে কোনাবাড়ী থেকে একটি, গাজীপুর ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি এবং রাজেন্দ্রপুর থেকে আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। সব মিলিয়ে চারটি স্টেশনের ৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানা ভবনের ভেতরে বেশ কয়েকজন কর্মী আটকা পড়েন। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া কর্মীদেরও দ্রুত নিরাপদে বের করে আনা হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভবন থেকে ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণের কাজ কিছু সময় ধরে চলে। কারখানার ভেতরে কাপড় ও ফেব্রিকসের গুদাম থাকায় সেগুলো সরিয়ে আগুনের উৎসস্থল পরীক্ষা করে সম্পূর্ণভাবে আগুন নেভানোর কাজ করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কারখানাটিতে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না এবং আশপাশে পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে আগুন কীভাবে লাগল এবং কারখানায় অগ্নিনিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও কর্মীদের দ্রুত উদ্ধার করায় বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলছে।