সেপ্টেম্বরেই ১১ মাসের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স, তবে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ১৩.৩%
সেপ্টেম্বরে ১১ মাসের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স, তবে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
সেপ্টেম্বরেই ১১ মাসের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স, তবে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ১৩.৩%
বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ সেপ্টেম্বরে কমে ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকেরসর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে প্রায় ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। তবে একই মাসের আগের বছরেরতুলনায় এটি প্রায় ২.২ শতাংশ বেশি।
আগস্টে বাংলাদেশ প্রায় ২.৯৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল। সেই তুলনায় সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ৭শতাংশ। এর ফলে টানা চতুর্থ মাসে মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে।
তবে শুধু সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান দিয়ে সামগ্রিক রেমিট্যান্স পরিস্থিতি বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। চলতি২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৮.৫৯১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সএসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৭.৫৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১৩.৩শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। এরআগে টানা ছয় মাস মাসিক রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলারের ওপরে ছিল। মে মাস পর্যন্ত এই প্রবাহ বজায় থাকার পর জুন থেকেতা ৩ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সেখানেজীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকেরমুখপাত্র আরিফ হোসেন খানও মধ্যপ্রাচ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে সাম্প্রতিক প্রবাহ কমার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখকরেছেন।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থান ও আয়-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাও প্রবাসী আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনেকরছেন। তবে রেমিট্যান্স কমার নির্দিষ্ট একটি কারণ নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত হয়েছে—এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস রেমিট্যান্স। প্রবাসীদের পাঠানো ডলার দেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহে বড়ধরনের ওঠানামা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, রেমিট্যান্সের পাশাপাশি রপ্তানি আয়ও বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের পণ্যরপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৮.৫৪ শতাংশ বেশি। ফলেসেপ্টেম্বরের রেমিট্যান্স কমলেও রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
আরও একটি বিষয় হলো, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্স রেকর্ড ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।অর্থাৎ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা গতি কমলেও সামগ্রিকভাবে প্রবাসী আয়ের ভিত্তি এখনো আগের বছরের তুলনায় বড়।