বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে একটি পলাতক চক্র
রাজধানীর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হাকিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগগুলোকে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা দাবি করে তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের কথা বলেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা। অন্যদিকে, একটি বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও বিদ্যালয়ের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের পর এখন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের অপেক্ষা।
বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে একটি পলাতক চক্র
রাজধানী ঢাকা মহানগরীর বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি, সরকারী টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনে ষড়যন্ত্র করছে একটি পলাতক চক্র। চক্রটির প্রধান হিসেবে আছেন আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তার, আর তার আপন ছোট ভাই মোঃ একরাম হোসেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে নিজের ভাইকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে সহায়তা করেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তার। মোঃ একরাম হোসেন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে জাল-জালিয়াতি, ডকুমেন্টস দেয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমান পাওয়া গেছে।
এদিকে সরজমিনে আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে জানা যায়, সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক আয়শা আক্তার স্কুলে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছিলেন। ভুয়া ভাউচার বানিয়ে স্কুলের প্রয়োজনে ফ্যান, আলমারি, বিবিধ নানা বিষয় দেখিয়ে বহুবার টাকা আত্মসাৎ করারও তথ্য পাওয়া গেছে।
আলোচিত ২০২৪ এর আগস্ট পরবর্তী সময় অনেক শিক্ষকের চাকরি চলে যায়, আর আব্দুল খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পূর্বেই অনিয়ম, জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তারের বিরুদ্ধে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হুদা স্বাক্ষরিত আনিত অভিযোগ গুলোর ভেতর উল্লেখযোগ্য -
১/ এম পিও বিলে বেতন বন্ধের প্রমান।
২/ আয়শা আক্তারের নিয়োগ-জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ এর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ও রেজুলেশন (১২/০৫/২০২৫)
৩/পিবিজিএসআই স্কীমের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার অনুদানের চিঠি ও রেজুলেশন।
৬/ ১৫/০৬/২০২৫ তারিখ ভাঙারী ব্যবসায়ী শাহ জালালের জবানবন্দী মতে বিদ্যালয়ের ২৭টি কম্পিউটার ও জেনারেটর ক্রয় করেন আয়শা আক্তার কর্তৃক।
৭/ ২০২০ সাল হইতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এমপিও / ননএমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের ২৯,৬৯,৯৭৭ টাকার বকেয়া বেতন রাখা সহ নানা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
স্কুলটিকে যেনো পরিবারে রূপান্তর করে ফেলেছিলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তার। স্বামী মো: ওবায়েদুল ইসলাম খান (অফিস সহায়ক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিজের ভাইকে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে যা না তাই করেছেন স্কুলের ফান্ড। তৎকালীন সেই সময়ে খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়শা আক্তারের অনিয়মে বাধা হয়ে দাঁড়ান বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবদুল হাকিম।
বাড্ডা থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সেই সময়ের বাধাই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, ২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যেসকল শিক্ষকদের চাকুরি চলে গেছে তাদের একটি অংশ মিলে আয়শা গংরা মিথ্যা ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে থানা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে এমনই তথ্য বেড়িয়ে এসেছে।
রামপুরা একরামুননেজা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, আমার ভবনের উপরেই তিনি (থানা শিক্ষা অফিসারের অফিস) এখানেই বসেন, এবং আমার এখানে সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো আছে। তিনি ব্যক্তি হিসেবে ভালো মানুষ। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা বলেই মনে করি।
খালেক মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নাজমুল হুদা জানান, আমাদের থানা শিক্ষা অফিসার খুবই ভালো মানুষ, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলেই আমি মনে করি। যেহেতু তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, তাই আশা করি সব পরিস্কার হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বাড্ডা থানা শিক্ষা অফিসার আবদুল হাকিম জানান, আমি নিজেও চেয়েছি তদন্ত হোক, যে অভিযোগ গুলো আনা হয়েছে তা খুবই বেদনার। আমার একটি পরিবার আছে, সন্তান আছে। আমি এটা বিশ্বাস করি ষড়যন্ত্র বা মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা যায় না।