শিবগঞ্জে মৃত ব্যক্তিকে ঘিরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়ানোর ষড়যন্ত্র ফাসঁ
শিবগঞ্জে কামরুজ্জামানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও নানা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে মৃতের ৮ ভাই-বোন দাবি করেছেন, কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পারিবারিক বিরোধের পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থতার পর তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, এসব বাস্তবতার বাইরে গিয়ে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে।
০ বার পড়া হয়েছে
০ শেয়ার
৪ মিনিটে পড়ুন
বগুড়ার শিবগঞ্জে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও নানা বক্তব্য নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মৃত কামরুজ্জামানের পরিবারের দাবি, তাঁর দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি, পারিবারিক বিরোধ ও অসুস্থতার বিষয়কে আড়াল করে মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৃতের ৮ ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মৃতের ভাই ও তহশিলদার মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর মাদকাসক্ত ছিলেন। ভবঘুরে জীবনযাপনে অভ্যস্ত কামরুজ্জামান নেশার অর্থ জোগাতে নিজের অংশের প্রায় সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। পরবর্তী সময়ে অর্থের জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে কামরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর ভাই ওবায়দুর রহমানের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। ওবায়দুর রহমান বুড়িগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবারের দাবি, ওবায়দুর রহমান মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক অনুসারী হওয়ায় পারিবারিক বিরোধের ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক রূপ পায়।মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কামরুজ্জামান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করেই পরে মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি পরিবারের।
অসুস্থতার পর হাসপাতালে মৃত্যু
সংবাদ সম্মেলনে কামরুজ্জামানের অসুস্থতা ও মৃত্যুর সময়ক্রমও তুলে ধরা হয়।পরিবারের দাবি, গত ৭ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন কামরুজ্জামান। পরে তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানায়।পরিবারের দেওয়া বক্তব্যে তাঁর মৃত্যুকে অসুস্থতার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটে যাওয়া মৃত্যু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আত্মহত্যার কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
মৃত্যুকে ঘিরে অপপ্রচারের অভিযোগ
পরিবারের অভিযোগ, কামরুজ্জামানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার বিষয়গুলো বাদ দিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।তাদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বক্তব্যের মাধ্যমে এমন একটি ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যাতে মীর শাহে আলমকে ওই ঘটনার সঙ্গে দায়ী বা সংশ্লিষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
পরিবার বলছে, বাস্তব ঘটনা ছিল দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি, পারিবারিক বিরোধ এবং পরবর্তী অসুস্থতার ধারাবাহিকতায় কামরুজ্জামানের মৃত্যু। এসব তথ্য বাদ দিয়ে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
মীর শাহে আলমের স্থানীয় রাজনৈতিক ভূমিকা
মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারি তথ্যেও উল্লেখিত। তাঁর শিবগঞ্জের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্যও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৫ সালের ৩১ মে শিবগঞ্জ প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মীর শাহে আলমকে বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের বিভিন্ন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও তাঁকে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
পরিবারের পাল্টা বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, কামরুজ্জামানের মৃত্যু ও তাঁকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের মাধ্যমে পরিবারের সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
তাঁরা আরও বলেন, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংবাদ সম্মেলনে মৃতের ৮ ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।
এভাবে কামরুজ্জামানের মৃত্যু, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং মীর শাহে আলমকে জড়িয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি পাল্টা বক্তব্য সামনে এলো। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির পেছনে থাকা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অসুস্থতার বিষয়গুলোই মৃত্যুর প্রকৃত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পর্কিত।




