নিউ জার্সিতে অভিবাসীদের পাশে নতুন সহায়তা নেটওয়ার্ক, বাড়ছে বহিষ্কার আতঙ্কের মধ্যে আইনি সহযোগিতা
নিউ জার্সিতে অভিবাসীদের সহায়তায় আইনজীবী, ধর্মীয় নেতা ও সংগঠনগুলো একসঙ্গে কাজ করছে, বহিষ্কারের ভয় কমাতে বাড়ছে আইনি সহযোগিতা।
নিউ জার্সিতে অভিবাসীদের পাশে নতুন সহায়তা নেটওয়ার্ক, বাড়ছে বহিষ্কার আতঙ্কের মধ্যে আইনি সহযোগিতা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের সহায়তায় আইনজীবী, স্থানীয় কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে নতুন ধরনের সমন্বয় গড়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের মধ্যে অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে আইনি সহায়তা, তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিউ জার্সি মনিটরের ১০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত প্রায় ২০ মাসে নিউ জার্সিতে অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে একজন সদস্যের অভিবাসন অবস্থা অনিশ্চিত, তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার, আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অনেক পরিবার দৈনন্দিন জীবন, কর্মসংস্থান ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংগঠনগুলো শুধু প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আইনজীবীরা অভিবাসীদের আইনি অধিকার সম্পর্কে জানাচ্ছেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় সহায়তা ও যোগাযোগের ব্যবস্থা করছে এবং বিভিন্ন সংগঠন পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করছে।
নিউ জার্সিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অঙ্গরাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরে বড় বাংলাদেশি সম্প্রদায় বসবাস করছে। বিশেষ করে বার্গেন, হাডসন, এসেক্স ও আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও পরিবার রয়েছে। তাই অভিবাসন আইন প্রয়োগের পরিবর্তন হলে স্থানীয় বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওপরও পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি—অভিবাসন সংক্রান্ত কোনো গুজব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে আইন হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কারও গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নিজের অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিউ জার্সিতে অভিবাসীদের নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়ও সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে। অঙ্গরাজ্যের কিছু সরকারি সম্পত্তির নির্দিষ্ট অপ্রকাশ্য এলাকায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের প্রবেশ সীমিত করার জন্য গভর্নর ফিল মারফির প্রশাসনের একটি আদেশকে একটি ফেডারেল বিচারক বহাল রেখেছেন। নিউ জার্সি মনিটর জানিয়েছে, ওই আদেশ ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সরকারি স্থানের অপ্রকাশ্য এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে।
এর অর্থ এই নয় যে নিউ জার্সিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। বরং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা এবং অভিবাসন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আইনি বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। ফলে একই ধরনের ঘটনা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভিন্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।
অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের কাগজপত্র ও আইনি অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। বৈধ কর্মঅনুমতি, অভিবাসন আবেদন, আদালতের নথি, অনুমোদনের চিঠি বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজ থাকলে সেগুলোর নিরাপদ কপি রাখা উচিত। পরিবারের সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। সম্প্রতি প্রশাসন এইচ-১বি এবং কয়েকটি অন্যান্য কর্মভিসার ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর পর প্রচলিত ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি; জনগণের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
এই প্রস্তাবটি নিউ জার্সির দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনো কর্মী চাকরি হারালে নতুন চাকরি খোঁজা, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সময়ের প্রয়োজন হয়। বর্তমান ৬০ দিনের সুযোগ বাতিল হলে সেই সময় অনেক কমে যেতে পারে। তবে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারিতে অভিবাসীদের গণনা নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এমন একটি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার ফলে নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের বাইরে কিছু অভিবাসীকে ২০৩০ সালের আদমশুমারির গণনা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। প্রস্তাবটি ৩০ দিনের জনমত গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
এটি অভিবাসী-অধ্যুষিত এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আদমশুমারির তথ্য কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব এবং বিভিন্ন সরকারি সম্পদের বণ্টনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। ফলে কোনো এলাকায় জনসংখ্যার সরকারি হিসাব পরিবর্তিত হলে দীর্ঘমেয়াদে সেই এলাকার রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও সরকারি অর্থ বরাদ্দে প্রভাব পড়তে পারে।
নিউ জার্সির অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা। কোনো ব্যক্তির নির্দিষ্ট অভিবাসন পরিস্থিতি অন্য ব্যক্তির সঙ্গে একই নাও হতে পারে। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা, কর্মভিসাধারী, শিক্ষার্থী, আশ্রয়প্রার্থী বা নাগরিকত্বের আবেদনকারী—প্রত্যেকের অধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া আলাদা।