হলিউড ছাড়ার পর ছেলের ১৬তম জন্মদিনে আবেগে স্মৃতিচারণ ড্যানিকার
হলিউডের ঝলমলে জীবন পেছনে ফেলে ড্যানিকা ম্যাককেলার ছেলের ১৬তম জন্মদিনে শেয়ার করলেন আবেগঘন স্মৃতি। ছোট্ট ড্রাকো আজ মায়ের চেয়েও লম্বা, সময় সত্যিই কত দ্রুত চলে যায়!
হলিউড ছাড়ার পর ছেলের ১৬তম জন্মদিনে আবেগে স্মৃতিচারণ ড্যানিকার
ড্যানিকা ম্যাককেলার তাঁর একমাত্র ছেলে ড্রাকোর ১৬তম জন্মদিনে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন। ‘দ্য ওয়ান্ডার ইয়ার্স’খ্যাত এই অভিনেত্রী ৭ সেপ্টেম্বর ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৈশব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মুহূর্তের একাধিক ছবি প্রকাশ করেন।
৫১ বছর বয়সী ড্যানিকা ম্যাককেলার যে ছবিগুলো শেয়ার করেছেন, তার মধ্যে সবচেয়ে আবেগঘন ছিল ড্রাকোর জন্মের পর তোলা প্রথম ছবিটি। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ড্রাকোর জন্মের পর তাঁকে কোলে নিয়ে থাকা অবস্থায় ড্যানিকাকে দেখা যায় সেই ছবিতে। ১৬ বছর পর সেই একই সন্তানের বড় হয়ে ওঠার স্মৃতি সামনে এনে অভিনেত্রী নিজের আবেগ প্রকাশ করেন।
ড্রাকো ড্যানিকার একমাত্র সন্তান। ২০১০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম হয়। ড্রাকোর বাবা সংগীতশিল্পী ও সংগীত রচয়িতা মাইক ভার্টা। ড্যানিকা ও মাইক ২০০৯ সালে বিয়ে করেন। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং ২০১২ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘটে।
ছেলের জন্মদিনের পোস্টে ড্যানিকা মূলত গত ১৬ বছরে ড্রাকোর বেড়ে ওঠার নানা মুহূর্ত তুলে ধরেছেন। ছোটবেলার ছবি থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের ছবিতেও দেখা গেছে কীভাবে সময়ের সঙ্গে তাঁর ছেলে বড় হয়ে উঠেছে। একটি সাম্প্রতিক ছবিতে ড্রাকোকে মায়ের চেয়েও অনেক লম্বা দেখা যায়।
ড্যানিকার প্রকাশ করা ছবিগুলোর মধ্যে ড্রাকোর বিভিন্ন শৈশব স্মৃতির পাশাপাশি তাঁর পিয়ানো বাজানোর ছবিও ছিল। এসব ছবি থেকে বোঝা যায়, অভিনয়জগতের বাইরে ছেলের বেড়ে ওঠা, আগ্রহ ও প্রতিভার বিভিন্ন মুহূর্তও তিনি যত্ন করে ধরে রেখেছেন।
ড্রাকোর গণিতের প্রতিও আগ্রহ রয়েছে। অন্যদিকে ড্যানিকা নিজেও গণিতের প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গণিত নিয়ে বই লিখেছেন এবং শিশুদের গণিতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কাজ করেছেন। ফলে ছেলের পড়াশোনা ও আগ্রহের বিষয়গুলোও তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা যায়।
ড্যানিকা ম্যাককেলার ছোটবেলায় অভিনয় শুরু করে ব্যাপক পরিচিতি পান। বিশেষ করে ‘দ্য ওয়ান্ডার ইয়ার্স’ ধারাবাহিকে উইনি কুপার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি, গণিত এবং পারিবারিক জীবনেও বেশি মনোযোগ দেন।
হলিউডের ব্যস্ত জীবন থেকেও তিনি ধীরে ধীরে কিছুটা দূরে সরে যান। ২০২২ সালে ড্যানিকা তাঁর পরিবার নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে ন্যাশভিলের বাইরে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে চলে যান। সেখানে তিনি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
ড্যানিকার জীবনে মাতৃত্ব যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও তিনি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। সন্তান জন্মের পর তাঁর জীবনে ভালোবাসা ও পরিবারের গুরুত্ব সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায় বলে তিনি আগে উল্লেখ করেছিলেন। ড্রাকোর বেড়ে ওঠার বিভিন্ন মুহূর্ত সংরক্ষণ করাও তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের বিষয়।
ছেলের ১৬তম জন্মদিনে প্রকাশ করা ছবিগুলো তাই শুধু জন্মদিনের শুভেচ্ছা নয়, বরং একজন মায়ের চোখে সন্তানের ১৬ বছরের বেড়ে ওঠার গল্প। হাসপাতালের বিছানায় মায়ের কোলে থাকা ছোট্ট শিশুটি আজ ১৬ বছরের কিশোর—এই পরিবর্তনই ড্যানিকার পোস্টকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
হলিউডের আলোঝলমলে জীবন থেকে অনেকটা দূরে গিয়ে বর্তমানে পরিবারকে ঘিরে জীবন কাটাচ্ছেন ড্যানিকা। আর ছেলের ১৬তম জন্মদিনে শেয়ার করা স্মৃতিগুলো দেখিয়ে দিল, খ্যাতির বাইরেও তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অধ্যায়গুলোর একটি হলো মা হিসেবে ড্রাকোর বেড়ে ওঠা দেখা।