আল্ট্রাসাউন্ডে মুখের ভেতর ‘জীবন্ত কিছু’ নড়ছে, আতঙ্কে ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিল
মুখের দীর্ঘদিনের রহস্যময় সমস্যার মাঝে আল্ট্রাসাউন্ডে ‘জীবন্ত কিছু’ নড়াচড়া করতে দেখার দাবি ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিলের! বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও রহস্য।
আল্ট্রাসাউন্ডে মুখের ভেতর ‘জীবন্ত কিছু’ নড়ছে, আতঙ্কে ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিল
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিল আবারও তাঁর দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এবার তাঁর দাবি, মুখের বাম পাশে করা আল্ট্রাসাউন্ডে চিকিৎসকরা এমন কিছু দেখতে পেয়েছেন, যা তাঁর ভাষায় ‘জীবন্ত’ এবং ‘নড়াচড়া করছিল’। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিল ‘দ্য রিয়েল হাউসওয়াইভস অব বেভারলি হিলস’-এর সাবেক সদস্য। ৭ সেপ্টেম্বর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায়। তিনি জানান, প্রথমে তাঁর মুখের বাম পাশে এমআরআই করা হয়েছিল। এরপর চিকিৎসক আরও বিস্তারিতভাবে বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড করার সিদ্ধান্ত নেন।
গ্ল্যানভিলের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্ট্রাসাউন্ডের সময় চিকিৎসাকর্মীরা তাঁর মুখের ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পান। তাঁর দাবি, চিকিৎসকরা এমন কিছু লক্ষ্য করেন যা ‘জীবন্ত’ বলে মনে হচ্ছিল এবং নড়াচড়া করছিল। তিনি আরও জানান, আল্ট্রাসাউন্ড করা ব্যক্তি এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি বলে তাঁকে জানিয়েছেন। পরে রেডিওলজিস্টও বিষয়টি দেখে বিস্মিত হন বলে গ্ল্যানভিল দাবি করেছেন।
এই অভিজ্ঞতায় গ্ল্যানভিল অত্যন্ত আতঙ্কিত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মুখের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগার পরও সুনির্দিষ্ট সমাধান না পাওয়ায় তাঁর হতাশা আরও বেড়েছে। ভিডিওতে তিনি এমন কথাও বলেছেন যে, সমস্যাটির সমাধান না হলে তিনি নিজেই সেটি বের করে ফেলার কথা ভাবছেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের মুখে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার বা কাটাছেঁড়া করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
গ্ল্যানভিলের এই শারীরিক সমস্যা কয়েক বছর ধরে চলে আসছে। ২০২৩ সালের পর থেকে তিনি মুখ ফুলে যাওয়া, ত্বকের পরিবর্তন, ব্যথা এবং মুখের আকৃতিতে পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে একাধিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি বিভিন্ন সংক্রমণ ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, ছত্রাকজনিত সমস্যা এবং ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার কথাও উঠে এসেছে। তাঁর মুখে একটি ছত্রাকজনিত পিণ্ড রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন, যেটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গ্ল্যানভিল আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে শিরায় ওষুধ দেওয়ার চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত শিরার মাধ্যমে চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হচ্ছে তাঁকে। দীর্ঘদিনের এই চিকিৎসা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন বলেও জানিয়েছেন।
নিজের চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে বলেও গ্ল্যানভিল দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে চিকিৎসার জন্য দুই লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ খরচ হয়েছে। তারপরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় তিনি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সন্ধান করছেন, যিনি তাঁর মুখের সমস্যার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারবেন।
তবে আল্ট্রাসাউন্ডে ‘জীবন্ত কিছু’ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুখের ভেতরে জীবন্ত পরজীবী পাওয়া গেছে—এমন কোনো স্বাধীন চিকিৎসা-নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বিষয়টি মূলত গ্ল্যানভিলের নিজের বক্তব্য ও তাঁর প্রকাশ করা ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
তাই ঘটনাটিকে সরাসরি ‘মুখের ভেতর জীবন্ত পরজীবী পাওয়া গেছে’ বলে নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না। বরং বলা যায়, আল্ট্রাসাউন্ডের সময় তাঁর মুখের বাম পাশে অস্বাভাবিক ও নড়াচড়া করা কিছু দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। সেটি আসলে কী—পরজীবী, সংক্রমণ, প্রদাহ, টিস্যুর নড়াচড়া নাকি অন্য কোনো শারীরিক পরিবর্তন—তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের এই রহস্যময় স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যেই নতুন এই আল্ট্রাসাউন্ডের ঘটনা ব্র্যান্ডি গ্ল্যানভিলের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন তাঁর চিকিৎসকদের কাছ থেকে আল্ট্রাসাউন্ডের ফলাফল এবং অস্বাভাবিক নড়াচড়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।