জাতিসংঘের তথ্যপ্রযুক্তি কাউন্সিলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, বিশ্বমঞ্চে নতুন অর্জন

আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশের বড় অর্জন! জাতিসংঘের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় তথ্যপ্রযুক্তি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বমঞ্চে আরও একবার উজ্জ্বল হলো দেশের নাম।

জাতিসংঘের তথ্যপ্রযুক্তি কাউন্সিলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, বিশ্বমঞ্চে নতুন অর্জন
জাতিসংঘের তথ্যপ্রযুক্তি কাউন্সিলের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, বিশ্বমঞ্চে নতুন অর্জন

আন্তর্জাতিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এক অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত পরিচালনা পরিষদের ২১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বর্তমানে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের ‘অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়াতে জাতিসংঘের এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন দেশের সরকারি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে।

সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জাতিসংঘের সম্মেলন কেন্দ্রে পরিচালনা পরিষদের ২১তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক পরিস্থিতি, আগের অধিবেশনের পর থেকে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

২০২৫ থেকে ২০২৮ মেয়াদের জন্য পরিচালনা পরিষদের নির্বাচিত আটটি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ভারত, কাজাখস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া, থাইল্যান্ড ও উজবেকিস্তান। স্বাগতিক দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়াও পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে ২০২৭ সালের কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়। এতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও ঘনিষ্ঠভাবে সামঞ্জস্য করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দায়িত্বও। সদস্য দেশগুলোর বাস্তব প্রয়োজন পূরণে কার্যকর জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোকে তিনি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারি সেবায় উদ্ভাবন, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অন্য সদস্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকেও বাংলাদেশ শিক্ষা নিতে পারবে।

ব্যাংকক সফরের সময় বাংলাদেশের প্রতিনিধি শুধু পরিচালনা পরিষদের বৈঠকেই অংশ নেননি। ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের আরও কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

এসব বৈঠকে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধীরে ধীরে গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকারি সেবা ডিজিটাল করা, অনলাইনভিত্তিক নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভাবনী কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

বিশেষ করে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা, ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরি এবং অনলাইন ব্যবসার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। জাতিসংঘের এই আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব অভিজ্ঞতা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বিনিময়ের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের জন্য এই নেতৃত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আঞ্চলিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল উন্নয়ন নিয়ে নীতিনির্ধারণে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি সেবা ডিজিটাল করার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল উন্নয়নের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অন্য দেশগুলোর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশে ডিজিটাল অবকাঠামো ও দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাদের জন্য প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়া দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্জন। এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য সম্মানের বিষয় নয়, বরং আঞ্চলিক ডিজিটাল উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার একটি বড় সুযোগ।

চেয়ারম্যান হিসেবে মুহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন আঞ্চলিক পর্যায়ে জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পেয়েছে। আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনে বাংলাদেশের এই নতুন দায়িত্ব দেশের ডিজিটাল সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরার পথ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…