মাকে হারিয়ে কাঁদছে ছয় বছরের শিশু, গুলিতে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা মায়ের
মাকে ডেকে কাঁদছে ছয় বছরের শিশু, লস অ্যাঞ্জেলেসে গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা মা ও অনাগত সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে।
মাকে হারিয়ে কাঁদছে ছয় বছরের শিশু, গুলিতে প্রাণ গেল অন্তঃসত্ত্বা মায়ের
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গুলিতে নিহত হয়েছেন ২২ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী আদ্রিয়ানা হিমেনেস। গত ২৩ আগস্ট ক্যানোগা পার্ক এলাকায় একটি গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় তিনি ও তার বোন গুলিবিদ্ধ হন। আদ্রিয়ানা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসকেরা তাকে মস্তিষ্ক-মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আদ্রিয়ানা তখন প্রায় ১৬ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং তার ছয় বছরের একটি কন্যাসন্তান ছিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার গর্ভের সন্তানও মারা যায়। কয়েক দিন জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থায় থাকার পর শুক্রবার পরিবারের সিদ্ধান্তে তার জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে আদ্রিয়ানার ছয় বছরের মেয়ে। পরিবারের এক সদস্য জানান, শিশুটি বারবার মাকে ডেকে কাঁদছে। তার ভাষায়, “সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো, ছোট্ট মেয়েটি তার মাকে ডেকে কাঁদছে।”
ঘটনার দিন আদ্রিয়ানা ও তার বোন মারিয়া ফার্নান্দা একটি গাড়িতে বসেছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এক বন্দুকধারী গাড়িটির কাছে এসে গুলি চালায়। আদ্রিয়ানার মাথায় গুলি লাগে। তার বোনও গুলিবিদ্ধ হন এবং গলার কাছে গুলি লাগলেও তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন।
পরিবার জানিয়েছে, আদ্রিয়ানা ১১ সেপ্টেম্বর তার ২৩তম জন্মদিন উদযাপন করার পাশাপাশি অনাগত সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশের অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই দিনটি এখন পরিবারের কাছে গভীর শোকের দিনে পরিণত হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর ৩০ বছর বয়সী ওয়াল্টার ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ গার্সিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদ্রিয়ানার মৃত্যুর পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও গুরুতর করার কথা জানিয়েছে কৌঁসুলির দপ্তর।
পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের পরিচিত ছিলেন। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন। পরিবার জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো গ্যাং-সম্পর্কিত হামলা ছিল না।
আদ্রিয়ানা এল সালভাদরের বাসিন্দা ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রায় দুই বছর পর এই মর্মান্তিক হামলার শিকার হন। তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা, শেষকৃত্য এবং প্রয়োজনে মরদেহ এল সালভাদরে ফিরিয়ে নেওয়ার খরচ বহনের জন্য সহায়তা সংগ্রহ করছেন।
ঘটনাটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতার ভয়াবহ মানবিক মূল্য সামনে এনেছে। একটি গুলির ঘটনায় এক তরুণীর জীবন থেমে গেছে, অনাগত সন্তানকে হারিয়েছে একটি পরিবার এবং মাত্র ছয় বছর বয়সেই মাকে হারিয়েছে একটি শিশু। তদন্ত এখনো চলছে।